স্পোর্টস ডেস্ক, ক্রাইম ক্রনিকল
ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তি আজ রিও ডি জেনিরোর মিউজিয়াম অফ টুমরোতে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় তাঁর প্রথম দল ঘোষণা করবেন। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী যা রাত ২টা।
দল ঘোষণার এই আয়োজন ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। বিভিন্ন দেশের প্রায় ৭০০ সাংবাদিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছে ব্রাজিলের গণমাধ্যম। এমনকি বাংলাদেশ থেকেও নেওয়া হয়েছে অনুমোদনপত্র। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে গ্লোবো টিভি, জিই টিভি, স্পোরটিভি, এসবিটি ও সিবিএফ টিভির ইউটিউব চ্যানেলে।
ধারণা করা হচ্ছে, এবারকার দলটি হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ইতিহাসে ব্রাজিলের অন্যতম অভিজ্ঞ দল। ফিফার কাছে পাঠানো ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক তালিকায় আছেন অন্তত ২০ জন ফুটবলার, যাঁরা আগে বিশ্বকাপ খেলেছেন এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও ছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১৫ জনের আজ ঘোষিত চূড়ান্ত দলে থাকার সম্ভাবনা প্রবল।
সম্ভাব্য তালিকায় আছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, কাসেমিরো ও মার্কিনিওস। বিশেষ করে কাসেমিরোকে আনচেলত্তির ব্যক্তিগত পছন্দের খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে ধরা হচ্ছে। এছাড়া আলেক্স সান্দ্রো, ব্রেমার, ফাবিনিও ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিদের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল।
তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে নেইমারকে ঘিরে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের গুরুতর হাঁটুর চোটের পর জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখা যায়নি ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে। অস্ত্রোপচারের কারণে প্রায় এক বছর মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি।
আনচেলত্তি আগেই পরিষ্কার করে দিয়েছেন, পুরোপুরি সুস্থ ও ছন্দে ফিরলেই কেবল বিশ্বকাপ দলে বিবেচনায় আনা হবে নেইমারকে। তবে রোববার সান্তোসের হয়ে করিতিবার বিপক্ষে ম্যাচের পর নিজের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে আশাবাদী কথা বলেছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।
নেইমার বলেন, “শারীরিকভাবে আমি খুব ভালো অনুভব করছি। প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে নিজেকে আরও উন্নত মনে হচ্ছে। নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এটা মোটেও সহজ ছিল না।”
সমালোচকদের উদ্দেশেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। নেইমারের ভাষায়, তাঁর শারীরিক অবস্থা ও মাঠের বাইরের জীবন নিয়ে “অনেক অর্থহীন কথা” বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি নীরবে কঠোর পরিশ্রম করেছি, কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক হয়েছে।”
করিতিবার বিপক্ষে ম্যাচে অবশ্য বিতর্কেও জড়াতে হয় নেইমারকে। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে চতুর্থ রেফারির ভুলে তাঁকে বদলি দেখানো হলে মাঠে ফেরার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় হলুদ কার্ডও দেখেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। পরে টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে বদলির কাগজ দেখিয়ে নিজের প্রতিবাদ জানান নেইমার। যদিও শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়তেই হয় তাঁকে। ম্যাচে ৩–০ গোলে হারে সান্তোস।
ম্যাচ শেষে নেইমারকে ঘিরে মূল প্রশ্ন ছিল, তিনি বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাবেন কি না। জবাবে নিজের আশাবাদ জানিয়ে ৩৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার বলেন, “আমি এখন ঠিক সেই জায়গাতেই পৌঁছেছি, যেখানে থাকতে চেয়েছিলাম। নিজের পারফরম্যান্সে আমি সন্তুষ্ট। এখন আনচেলত্তি নিশ্চয়ই এই লড়াইয়ের জন্য সেরা ২৬ জনকেই বেছে নেবেন।”
এদিকে ব্রাজিলের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘জেনিয়াল/কুয়েস্ট’-এর এক জরিপে দেখা গেছে, নেইমারকে জাতীয় দলে ফেরানোর পক্ষে মত দিয়েছেন ৪৭ শতাংশ ব্রাজিলিয়ান। বিপক্ষে মত দিয়েছেন ৪৫ শতাংশ। বাকি ৮ শতাংশ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
জরিপে আরও দেখা গেছে, বিশ্বকাপ নিয়েও আগের মতো উচ্ছ্বাস নেই ব্রাজিলিয়ানদের মধ্যে। ৫৪ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কোনো উত্তেজনা নেই। আবার ৬৮ শতাংশের বিশ্বাস, এবারও বিশ্বকাপ জিততে পারবে না পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
তবে আনচেলত্তি পরিষ্কার করে দিয়েছেন, দল নির্বাচন হবে বর্তমান পারফরম্যান্স ও শারীরিক সক্ষমতার ভিত্তিতে। একই সঙ্গে নেইমারের জনপ্রিয়তার প্রশংসাও করেছেন ইতালিয়ান কোচ। তাঁর ভাষায়, “নেইমার সবার প্রিয়। সে থাকলে দলের পরিবেশে কোনো সমস্যা হবে না।”
তরুণ ফরোয়ার্ড এস্তেভাওয়ের ঊরুর পেশিতে চোট থাকায় আক্রমণভাগে নতুন জায়গা তৈরি হয়েছে। গুঞ্জন রয়েছে, নেইমারকে জায়গা দিতে গিয়ে বাদ পড়তে পারেন জোয়াও পেদ্রো। তবে দলে ফিরলেও নেইমারকে শুরুর একাদশের বদলে বদলি খেলোয়াড় হিসেবেই বেশি ব্যবহার করতে পারেন আনচেলত্তি।
৭৯ গোল করা নেইমার এখনো ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তবে প্রায় দেড় বছর পর জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনাকে ঘিরে এখনো রয়েছে অনিশ্চয়তা ও ব্যাপক আলোচনা।