স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল


গাজীপুর জেলার সফিপুরে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কলেজছাত্রীকে জোরপূর্বক বেআইনি জিজ্ঞাসাবাদ, মানসিক নির্যাতন ও শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য ও ছাত্রীসংস্থার সভানেত্রী সাবিকুন্নাহার তামান্না এবং তার বড় বোন সিরাজুম মুনিরার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সফিপুর আইডিয়াল কলেজের ছাত্রী বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার মোড় বদলে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল।


অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে সাবিকুন্নাহার তামান্না ও তার বড় বোন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে সফিপুর বাজার কেন্দ্রীয় মসজিদের নারীদের নামাজের স্থানে ডেকে নিয়ে যান। কিছু বুঝে উঠার আগেই ডাকসু সদস্য ও তার বোন মিলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং মিথ্যা, বানোয়াট, কুরুচিপূর্ণ অভিযোগ দিতে থাকে। হেনস্তার শিকার মেয়েটি তার ফোন ফেরতে চাইলে সিরাজুম মুনিরা তাকে চড় মেরে বলেন, "দাদার বয়সী একটা ব্যাডার সাথে প্রেম করিস আবার জিগায় ফোন কেনো দিবো!" এসময় মুনিরা তার ফোনে থাকা কিছু অপ্রীতিকর স্ক্রিনশট দেখিয়ে মেয়েটিকে বলেন, "তুই আমার বাবা বেলাল হোসেন সরকারের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক করিস"। মেয়েটি সবকিছু অস্বীকার করলে তাকে আরো হেনস্তা করে মুনিরা। উল্লেখ্য, বেলাল হোসেন সরকার গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার জামায়াতে ইসলামীর আমিরের দায়িত্বে আছেন।


ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে উপর্যুপরি মারতে মারতে মুনিরা বলেন, "তোকে এলাকা ছাড়া করবো, তুই জঘন্য মেয়ে, তোর বাবা রাতের বেলা তোর ঘরে যায়, তোর বাবা তোকে ধর্ষণ করে, তোর চরিত্রের ঠিক নাই"। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবিহ্বল শিক্ষার্থী তার নিজ পরিবারকে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। তখন ডাকসুর সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে "একটা ফোনের লোভে বুড়ো ব্যাটার সাথে রাত কাটাস" বলে মারধর করেন। আধা ঘন্টা পর ভুক্তভোগীর পরিবার ঘটনাস্থলে এসে শক্ত অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতির মোকাবিলা করলে তামান্না ও মুনিরা তার বাবা বেলাল হোসেন সরকারকে কল দিয়ে জানতে পারে পরকীয়া প্রেমিকাকে বাঁচাতে ভুল মানুষের নাম বলেছেন তিনি। জানা যায় সাবিকুন্নাহার তামান্না ও সিরাজুম মুনিরার বাবা জামায়াতে ইসলামীর আমীর বেলাল হোসেন সরকারের পরকীয়া প্রেম-লালসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই শিক্ষার্থীকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।


ঘটনা অন্য দিকে মোড় নেয়ায় সাবিকুন্নাহার তামান্না ও সিরাজুম মুনিরা তাদের বাবার দুশ্চরিত্রের কথা স্বীকার করেন এবং এটাও স্বীকার করে যে, তার বাবা এরকম আগেও ঘটিয়েছে। বাবার এমন চরিত্রের কারণে তার এক পরকীয়া প্রেমিকাকে এলাকাছাড়া করতে বাধ্য হয়েছেন। মারধর ও হেনস্তা করার পর ভুক্তভোগীর পরিবারকে তারা বারবার বিষয়টি মামলা ও মিডিয়ায় না নিতে অনুরোধ করেন। সাবিকুন্নাহার তামান্না পরিবারটিকে বলেন, "এসব করে আমাদের কিছুই করতে পারবা না, আমাদের সারাদেশের মানুষ চিনে, আমাদের নামে মিডিয়াতে এসব বললেও কেউ বিশ্বাস করবেনা"।


এই ঘটনায় পর ডাকসু কার্যনির্বাহী সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্নার মায়ের অনুরোধে এবং গাজীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের বিচারের আশ্বাসে ভিক্টিমের পরিবার বেলাল হোসাইন সরকার আর তার একচোখা কন্যাদের নামে মামলা করা থেকে বিরত থাকে কারণ ভিক্টিমের পরিবারের একাংশ জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত।


তবে গত ১৭ মে নয়াদিগন্তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নে নিজ পরিবার দ্বারা লাম্পট্যের অভিযোগে অভিযুক্ত বেলাল হোসেন সরকারকে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে, ডাকসুর ক্ষমতাকে অপব্যবহার করে কার্যনির্বাহী সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না নিজের বাবার যৌন লালসা ঢাকতে এবং একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক নারী শিক্ষার্থীকে মিথ্যা অপবাদ, হেনস্তা ও মারধরে তৎপর হন। নিজের বাবাকে ধর্মের অবতার মনে করে যাকে-তাকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছেন তিনি ও তার বোন সিরাজুম মুনিরা। এ বিষয়ে এখনো কোনো মামলা হয়নি বলে জানা যায়। তবে এ ব্যাপারে সাবিকুন্নাহার তামান্নার সাথে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।