নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম       


২৩ বছর ধরে ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে আদালতে ঘুরতে ঘুরতে সর্বস্ব হারিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে নেমেছেন মা। অথচ গত বৃহস্পতিবার সেই মামলার রায় ঘোষণা হলেও তিনি কিছুই জানতেন না। ঘটনাটি ঘটেছিল চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে। ২০০৩ সালের জানুয়ারি আগ্রাবাদের বাদামতলী এলাকার একটি কবরস্থানের ঝোপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল যুবক ইছু মিয়ার গলা কাটা ও হাত-পা বাঁধা মরদেহ। তখন তিনি আগ্রাবাদের একটি মাছের আড়তে কাজ করতেন।


মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, বোনকে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ভাড়া বাসায় থাকা জামাল উদ্দিন ও তার সহযোগীরা ইছু মিয়াকে হত্যা করে। সেই থেকে ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে ২৩ বছর ধরে আদালত-কাচারি করেছেন মা লায়লা বেগম। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় জমি-জমা, সহায়-সম্বল সব হারিয়ে একসময় পথে বসেন তিনি। এখন বৃদ্ধ বয়সে মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পেতে কোনোমতে দিন কাটাচ্ছেন। মাঝে হাল ছেড়ে দিয়ে ঠিক করেছিলেন, আর আদালতে যাবেন না।


কিন্তু গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের আদালত এই মামলার রায় ঘোষণা করে। রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রায়ের দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না সর্বহারা মা লায়লা বেগম। স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৩ বছর আগে তরুণ ইছু মিয়ার সেই মা এখন বৃদ্ধা, অসহায় ভিক্ষুক। রায়ের খবরও পৌঁছায়নি তার কানে।


এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন উঠল বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে। একজন মা সন্তান হারানোর শোকের পাশাপাশি বিচারের আশায় জীবনের শেষ সম্বলটুকুও হারালেন, অথচ রায়ের দিনও তিনি জানলেন না, বিচার পেয়েছেন কিনা। আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, মামলার বাদী ও ভিকটিমের পরিবারকে রায়ের বিষয়ে দ্রুত অবহিত করার ব্যবস্থা থাকা দরকার। তা না হলে বিচার পেলেও তার সুফল ভোগ করা যায় না।


লায়লা বেগমের এখন একটাই চাওয়া। বাকি জীবনটা যেন একটু শান্তিতে কাটে।