স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল
আদালত প্রাঙ্গণে প্রায়ই নানা ধরনের মনোহরী সামগ্রী ও খাদ্যদ্রব্যের বেচাকেনা দেখা যায়। মনে হয় যেন পসরা বিছিয়ে ছোটখাটো একটি বাজার বসেছে। যদিও মামলা-মোকদ্দমার এই প্রাঙ্গণে অনেক সময় নিয়ম-শৃঙ্খলার ঘাটতি চোখে পড়ে, তবে বিচারকের এজলাসে (আদালতকক্ষে) সাধারণত সবাই থাকেন সতর্ক ও সংযত। সেখানে কারও সাজা ঘোষণা হয়, কাউকে জামিন না দিয়ে পুলিশ রিমান্ডে পাঠানো হয়, আবার অনুপস্থিত আসামির বিরুদ্ধে জারি হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। তবে এসব পরিচিত দৃশ্যকেও ছাপিয়ে পাবনা চিফ জুডিশিয়াল আদালত সাক্ষী হলো এক নজিরবিহীন ঘটনার। বিচারকের সামনেই জামিনে থাকা এক আসামি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা হাজতি আসামির হাতে মাদক সরবরাহ করার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।
আদালত ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে বৃহস্পতিবার দুপুরে পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪র্থ আদালত-এ একটি হত্যা মামলায় হাজিরা দিতে আসেন আসামি মো. তুর্য্য ইসলাম আশিফ। এসময় তিনি আদালতের কাঠগড়ায় দস্যুতা মামলায় আটক হাজতি আসামি মো. সুজন আহমেদ রনির কাছে মাদক সরবরাহ করেন। বিষয়টি উপস্থিত আইনজীবী ও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে দুজনকে তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশির সময় আশিফের কাছ থেকে ২০ গ্রাম গাঁজা এবং রনির কাছ থেকে চারটি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। মাদক উদ্ধারের পর কোর্ট পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (সিএসআই) জব্দ তালিকাসহ আদালতে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মতিউর রহমান এজলাসেই সামারি ট্রায়াল পদ্ধতিতে বিচারকাজ শুরু করেন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মো. তুর্য্য ইসলাম আশিফকে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং মো. সুজন আহমেদ রনিকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাবনা আদালত-এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম সরোয়ার খান জুয়েল বলেন, “আদালতকক্ষে মাদক সরবরাহের মতো ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। এটি প্রমাণ করে, সমাজে মাদকের বিস্তার কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পাড়া-মহল্লা পেরিয়ে মাদক এখন আদালতের এজলাস পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।”
ঘটনার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন পাবনা বার অ্যাসোসিয়েশন-এর আইনজীবী আবু বকর সিদ্দিক। তিনি জানান, কাঠগড়ায় থাকা হাজতি আসামিকে তার সহযোগী জামিনে মুক্ত আসামি সিগারেটের প্যাকেটের মধ্যে করে গাঁজা দেওয়ার চেষ্টা করলে বিষয়টি দায়িত্বরত কোর্ট পুলিশের নজরে আসে। পরে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে আদালত অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে বিষয়টি আমলে নেয়।
তিনি আরও বলেন, আদালতের এমন তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় পদক্ষেপ শুধু আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়নি, বরং আদালতের ভাবমূর্তি রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।