স্টাফ রিপোর্টার, ঢাবি |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ - কুয়েত মৈত্রী হলের দূষিত পানি -খাবার, ক্যান্টিন অব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনের অবেহলা নিয়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে চলছেন গত কয়েক সপ্তাহ ধরে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ দূষিত খাবার - পানীয় ও অব্যবস্থাপনার কারণে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী ডায়রিয়া, বমি ও তীব্র পেটের ব্যথায় আক্রান্ত হয়েছেন।
শিক্ষার্থীরা আরো জানান, দীর্ঘদিন ধরেই হলের ডাইনিং সংলগ্ন ফিল্টারের মুখে দলবেঁধে বানরকে মুখ দিয়ে পানি খেতে দেখা যেত। বিষয়টি বারবার হল প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো প্রতিরোধমুলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। এক পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, এবং শিক্ষার্থীরা হল গেইটে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
শিক্ষার্থীদের তীব্র দাবির মুখে গত ৭ মে হলের বিভিন্ন ফিল্টার ও পানির ট্যাংকের নমুনা সংগ্রহের পর তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। গত ১১ মে সোমবার সেই পরীক্ষার অফিসিয়াল প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
হলের ডাইনিং সংলগ্ন ফিল্টারের পানিতে মারাত্মক মাত্রায় ব্যাকটেরিয়া ও মল-মূত্রের জীবাণুর (ফিকাল কলিফর্ম) উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এই পানিকে ‘পানের অনুপযোগী’ ও ‘চরম অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, হলের ডাইনিং সংলগ্ন প্রধান ফিল্টারের প্রতি মিলিলিটার পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে ৩,২০০টি, যেখানে গ্রহণযোগ্য মাত্রা সর্বোচ্চ ৫০০! আশঙ্কাজনকভাবে, প্রতি ১০০ মিলিলিটার পানিতে ‘টোটাল কলিফর্ম’ পাওয়া গেছে ১৬টি এবং মানবদেহের মলের জীবাণু বা ‘ফিকাল কলিফর্ম’ পাওয়া গেছে ৮টি, যার আদর্শ মানদণ্ড শূন্য (০)। ল্যাব রিপোর্টে এই পানিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে।
ল্যাব টেস্টের প্রাথমিক ফলাফল জানার পর হল প্রশাসন তড়িঘড়ি করে ট্যাংক পরিষ্কার করে ১১ মে পুনরায় নমুনা পাঠালেও অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ জানায়, দ্বিতীয় দফায় ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি কমার বদলে জ্যামিতিক হারে বেড়ে প্রতি মিলিলিটারে ৪৮,৫০০টিতে পৌঁছায়, যা স্বাভাবিক সীমার চেয়ে প্রায় ৯৭ গুণ বেশি। ফলে অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ এই পানিকে জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও পানের সম্পূর্ণ অযোগ্য ঘোষণা করলে হল প্রশাসন ডাইনিংয়ের ফিল্টারটি সিলগালা করে দেয়। তবে একই হলের আরেকটি ভবনের ফিল্টারের পানি পানের উপযোগী (ব্যাকটেরিয়া ৪০০ cfu/ml, কলিফর্ম ০) বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাহবুবা সুলতানার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বলেন, "রিপোর্ট পাওয়ার পরপরই ডাইনিংয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ফিল্টারটি বন্ধ ও সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। বিকল্প নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।"
এদিকে এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন, বাজেট স্বচ্ছতা এবং মৈত্রী হলের সংকট নিরসনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।