ক‍্যাম্পাস প্রতিনিধি, ঢাবি। ক্রাইম ক্রনিকল। ১১ মে, ২০২৬।


মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, রাজাকার, আল বদর, আল শামস ও তাদের দোসর কর্তৃক হত্যাকাণ্ডের শিকার শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে ভিসি চত্বরে টাঙানো স্মৃতিফলক / বিলবোর্ড ঢেকে দিয়ে, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর একটি ফেস্টুন লাগানো হয়।

ফেস্টুনটি লাগানোর সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে টাঙানো স্মৃতিফলকটি ঢেকে যাচ্ছে বলে সতর্ক করা সত্ত্বেও তা কোনরূপ কর্ণপাত না করে ছাত্রশিবিরের ফেস্টুনটি ঝুলানো হয়।


ঢাবির ভিসি চত্বরে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে স্থাপিত স্মৃতিফলক ঢেকে ছাত্রশিবিরের ফেস্টুন টানানোকে ঘিরে সমালোচনার ঝড়। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই ফেস্টুন ঝুলানোর অভিযোগ উঠেছে সংগঠনটির বিরুদ্ধে। তীব্র সমালোচনার তোপে পড়ে ফেস্টুন সরাতে বাধ্য হয় সংগঠনটি।


শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে স্মৃতিফলকগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু হায়াত মো. জুলফিকার-এর নেতৃত্বে টানানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।



এটি পরোক্ষভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগকে অস্বীকার করার শামিল। শিবিরের উক্ত ফেস্টুনে নিজ দলীয় প্রোগ্রামের বার্তা দেওয়া হয়। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করা ছাত্রসংঘের উত্তরসূরী বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির নানানভাবেই মহান মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করে আসছে। উক্ত ঘটনা তারই ধারাবাহিকতা বলে ধারণা করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সমাজ।


ঘটনাটি ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি “অনিচ্ছাকৃত ভুল”, নাকি পরিকল্পিতভাবেই প্রতিবার এমন কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।