স্টাফ রিপোর্টার । ক্রাইম ক্রনিকল


জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর’ বিষয়ক চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে বৃহৎ বিড়াল প্রজাতির সংরক্ষণে গঠিত আন্তর্জাতিক জোট ‘ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স’-এর ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তিতে স্বাক্ষরের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার অষ্টম বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়গুলো জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাপানের সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি স্থানান্তর সংক্রান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।


দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সময়। ছবি: সংগৃহীত।


অন্যদিকে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ‘ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স’-এ যোগদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাঘ, সিংহ, চিতাবাঘ, তুষার চিতাবাঘ, পুমা, জাগুয়ার ও চিতাসহ সাতটি বৃহৎ বিড়াল প্রজাতির সংরক্ষণে এই জোট গঠিত হয়। বর্তমানে জাতিসংঘের ২৪টি সদস্য রাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ এর অংশীদার।


মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, বৃহৎ বিড়াল প্রজাতির আবাসস্থল রক্ষা, অবৈধ শিকার ও পাচার প্রতিরোধ এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এই জোটের মূল লক্ষ্য। রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অন্যতম আবাসভূমি সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য ও সংরক্ষণের বিষয় বিবেচনায় বাংলাদেশ এ উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছে।


এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসনের জন্য বৈশ্বিক চুক্তি’ বাস্তবায়নে ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের খসড়া জাতীয় কর্মপরিকল্পনারও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, ২০১৮ সালে জাতিসংঘে গৃহীত এই বৈশ্বিক চুক্তিতে বাংলাদেশসহ ১৬৪টি দেশ যুক্ত রয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ২০২০ সালে বাংলাদেশকে এ চুক্তির ‘চ্যাম্পিয়ন দেশ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। আইওএমের সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন কর্মপরিকল্পনাটি প্রণয়ন করা হয়েছে।


বৈঠকে চলতি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সাতটি মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্যমতে, এ সময়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৭০ দশমিক ৭৩ শতাংশ।