স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে ছালমার একটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পোস্টটির মন্তব্যঘরে কয়েকজন পরিচিত ছাত্রনেতার মন্তব্য এবং পরে তা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত স্মৃতি আফরোজ সুমির প্রতিক্রিয়া নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি চীনে অবস্থানরত উম্মে ছালমা নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিতে তাকে পিকিং ইউনিভার্সিটির সামনে এক সহপাঠীর সঙ্গে দেখা যায়। পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “Bangladesh + Pakistan ❤️” এবং “ঢাকা ইউনিভার্সিটি + পিকিং ইউনিভার্সিটি 💙”।
পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর মন্তব্যঘরে কয়েকজন পরিচিত ছাত্রনেতার মন্তব্য নজর কাড়ে। স্ক্রিনশট অনুযায়ী—
শিবির মনোনীত প্যানেল থেকে ডাকসুর সদস্য নির্বাচিত হওয়া তাজিনুর রহমান মন্তব্য করেন,
“উনাকে দাওয়াত দিয়ে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। আপ্যায়ন আমি করবো।”
রাকসু (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ) জিএস হিসেবে পরিচিত সালাহউদ্দিন আম্মার লেখেন,
“নিয়ে আসেন আমার জন্য😔”
মুহসীন হল ছাত্র সংসদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. জুলহাস ইসলাম মন্তব্য করেন,
“দেখ তো তোর ভাবি বানানো যায় কিনা।”
এসব মন্তব্যের স্ক্রিনশট পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী স্মৃতি আফরোজ সুমি।
স্মৃতি আফরোজ সুমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শামসুন নাহার হলের সঙ্গে যুক্ত। সহশিক্ষা কার্যক্রমে তিনি বিতার্কিক, শিল্পী ও সাঁতারু হিসেবেও পরিচিত। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও শ্বেতপত্র প্রকাশের লক্ষ্যে গঠিত শিক্ষার্থীদের ‘ছায়া তদন্ত কমিটি’র সদস্য মনোনীত হন তিনি। এছাড়া গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত নথিপত্র সংরক্ষণ ও ডকুমেন্টেশন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গঠিত বিশেষ সেলের সদস্য হিসেবেও কাজ করছেন।
ডাকসু নির্বাচন ঘিরেও তিনি আলোচনায় আসেন। শামসুন নাহার হল সংসদের ভিপি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম আলোচিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রচারপত্রে হিজাব বা মুখ ঢাকা ছবি ব্যবহারকে কেন্দ্র করে সমালোচনা ও রাজনৈতিক কটাক্ষের মুখেও পড়তে হয় তাকে। পরে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে দেওয়া তাঁর বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচিত হয়।
সাম্প্রতিক পোস্টে স্মৃতি আফরোজ সুমি লেখেন, সমাজে যাদের অনেকে ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা বা শরিয়াহভিত্তিক সমাজের পক্ষে সোচ্চার ব্যক্তি হিসেবে জানেন, তাদের কাছ থেকে এমন মন্তব্য হতাশাজনক। তিনি উল্লেখ করেন, নারীর পর্দা ও শালীনতা নিয়ে যারা কঠোর অবস্থান নেন, তাদের নিজেদের আচরণেও সেই সংযম ও দৃষ্টির হেফাজতের প্রতিফলন থাকা উচিত।
তার ভাষায়, “প্রশ্নটা শুধু একটি কমেন্টের না; প্রশ্নটা সামঞ্জস্য (consistency) আর আত্মসমালোচনার।”
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের ছবি ঘিরে পুরুষদের কিছু মন্তব্য প্রায়ই নারীদের জন্য অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করে। কিন্তু একই আচরণ যখন ধর্মীয় বা নৈতিক অবস্থানের দাবিদার ব্যক্তিদের মধ্যেও দেখা যায়, তখন সেটি আরও বেশি প্রশ্নের জন্ম দেয়।
পোস্টের শেষাংশে তিনি স্পষ্ট করেন, তার এই বক্তব্য নির্দিষ্ট কয়েকজনকে উদ্দেশ্য করে নয়; বরং বৃহত্তর সামাজিক প্রবণতাকে সামনে আনতেই তিনি বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বিষয়টিকে সাধারণ রসিকতা হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে বলছেন—জনপরিচিত ছাত্রনেতা ও রাজনৈতিক কর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।