স্টাফ রিপোর্টার। ক্রাইম ক্রনিকাল 


ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী–এর ওপর হামলার ঘটনায় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আকাশি রঙের গেঞ্জি পরিহিত এক তরুণকে পকেট থেকে অস্ত্রসদৃশ বস্তু বের করতে দেখা গেছে।

ওই তরুণের নাম আশিক মণ্ডল। তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাষ্টসাগরা গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে একটি কমিউনিটি সেন্টারে কাজ করেন। পাশাপাশি তিনি এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।


ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন কালেক্টরেট জামে মসজিদের সামনে। নামাজ শেষে নেতা-কর্মীদের নিয়ে বের হওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী–এর সঙ্গে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ কথা বলছিলেন। এ সময় হঠাৎ হামলা ও ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের অন্তত পাঁচজন আহত হন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হামলার একপর্যায়ে আশিক নামের ওই তরুণ পকেট থেকে একটি বস্তু বের করে হামলা করতে উদ্যত হন। পরে পাশে থাকা পাঞ্জাবি পরা আরেক ব্যক্তি তাঁকে থামিয়ে দিলে তিনি বস্তুটি আবার পকেটে রেখে দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মসজিদে প্রবেশ করার সময় আকাশি গেঞ্জি পরিহিত কয়েকজন তরুণ তাঁকে ঘিরে রেখেছিলেন। সংঘর্ষের সময়ও তাঁদের তৎপরতা বেশি লক্ষ্য করা যায়।

এ ঘটনায় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আশিক মণ্ডল একটি ‘গুপ্ত সংগঠনের’ সদস্য এবং তিনি আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের চেষ্টা করেছেন। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।


অন্যদিকে এনসিপির জেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী হামিদ পারভেজ দাবি করেছেন, আকাশি গেঞ্জি পরা তরুণেরা দলীয় স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আশিকের হাতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ছিল না; সেটি ছিল নিরাপত্তার জন্য রাখা একটি ‘চায়না স্টিক’।

ঘটনার পর এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১১০ থেকে ১১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি (তদন্ত) গোকুল চন্দ্র জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে।