স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সদস্যসচিব সর্দার আমিরুল ইসলাম দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। গত বছরের জুনে তিনি দলটিতে যোগ দিয়েছিলেন। ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এবং গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি পদত্যাগের কারণ হিসেবে দলের রাজনৈতিক কৌশল ও আদর্শিক অবস্থান নিয়ে মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, মধ্যপন্থী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপির লক্ষ্য, আদর্শ ও নীতির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তিনি দলে যোগ দেন। তবে নির্বাচনকালীন সময়ে দলটির একটি ডানপন্থী জোটে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত তার মধ্যে হতাশা তৈরি করে। তার ভাষায়, ওই সময় তিনি সিদ্ধান্তটিকে কৌশলগত বিবেচনায় মেনে নিয়ে দলের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যান। কিন্তু নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও দলে ডানপন্থী প্রবণতা বাড়তে দেখেন বলে তিনি দাবি করেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “আমি সর্দার আমিরুল ইসলাম, গত বছরের জুন মাসে এনসিপির প্রাথমিক লক্ষ্য, আদর্শ ও নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সহিত মধ্যপন্থী রাজনীতির নয়া শক্তি হিসেবে এনসিপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলাম।” তিনি আরও জানান, গত দুই মাস তিনি সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে দূরে রাখেন এবং এরপর দলীয় শীর্ষ নেতার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে তাকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, “শেষ দুই মাস রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় থাকি এবং দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা বরাবর পদত্যাগপত্র পেশ করি। তিনি পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে আমাকে পুনর্বিবেচনা করতে বলেন।” তিনি লেখেন,“অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এনসিপির যে প্রতিশ্রুতিতে আকৃষ্ট হয়ে আমি যুক্ত হয়েছিলাম বর্তমানে দলের কার্যক্রমে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের আশা ভঙ্গের এই পরিস্থিতিতে এবং দলের রণনীতি ও রণকৌশলের সাথে মতদ্বৈততা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় আমার পক্ষে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা আর সম্ভব হচ্ছে না।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, সর্দার আমিরুল ইসলাম পূর্বে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৭ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে তিনি সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত হন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে প্রায় ২০ মাস পর সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
পারিবারিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও তিনি আলোচনায় ছিলেন। ২০২৪ সালের মে মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সাম্য ছুরিকাঘাতে নিহত হন। তিনি সর্দার আমিরুল ইসলাম সাগরের ভাই।
এনসিপি থেকে তার পদত্যাগের পর দলটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে দলটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।