ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় 


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ডিবেটিং ক্লাবের গঠনতন্ত্রে রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক পদে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্লাব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, সেই বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন ছাত্রশিবির নেতার বিরুদ্ধে।


অভিযোগ রয়েছে, তারা ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি ও সম্পাদকীয় পদে দায়িত্ব পালনকালে শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বে ছিলেন, সংগঠনের কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং শিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে ডাকসু হল সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।


নিয়ম লঙ্ঘনের এমন অভিযোগ উঠেছে জিয়াউর রহমান হল ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি মোঃ নাঈমুল আবরার এবং সূর্যসেন বিতর্ক ধারার সাবেক সভাপতি ও সূর্যসেন হল সংসদের জিএস মোখলেছুর রহমান জাবিরের বিরুদ্ধে।


২০২৫ সালের ১০ জুলাই মো. নাঈমুল আবরার জিয়াউর রহমান হল ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন। অভিযোগ রয়েছে, সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এছাড়া একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হল সংসদ নির্বাচনে তিনি শিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে জিয়াউর রহমান হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং ৩৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।


উল্লেখ্য, জিয়াউর রহমান হল ডিবেটিং ক্লাবের গঠনতন্ত্রের ধারা ১০(২)(ছ)-এ রাজনৈতিক দল বা রাজনৈতিক পদে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বা ইংলিশ কনভেনর পদে নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।



জিয়া হল ডিবেটিং ক্লাব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গঠনতন্ত্র।


এ বিষয়ে জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী খালিদ আল ফাহিম বলেন, “ছাত্র শিবির নেতৃবৃন্দ হল কমিটি গোপন রেখে হলের ক্লাবগুলো দখল করে রেখেছে, এবং হলের ক্লাবগুলোর পদে থেকেও ডাকসু নির্বাচনে শিবির প্যানেল থেকে হল সংসদ নির্বাচন করেছেন এবং প্রভাব খাটিয়েছেন। মোঃ নাঈমুল আবরার জিয়া হল শিবির সভাপতি থেকেও সেটা প্রকাশ না করে ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি হয়েছেন এবং ডাকসুতে হল সংসদে সহ সভাপতি পদে নির্বাচন করেছেন যেটা গঠনতন্ত্রের পুরোপুরি লঙ্ঘন।”



ছবিতে জিয়া হল ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি নাইমুল আবরারের শিবিরের ক্যালেন্ডার বিতরণের ছবি


অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি পদে দায়িত্বে থেকেও নাঈমুল আবরার জিয়া হল ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রকাশ্যে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেসব কার্যক্রম প্রচার করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।


একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে সূর্যসেন হলের ছাত্রনেতা মোখলেছুর রহমান জাবিরের বিরুদ্ধেও। তিনি ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত সূর্যসেন হল ডিবেটিং ক্লাব ‘সূর্যসেন বিতর্ক ধারা’র সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।


অভিযোগ রয়েছে, সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এছাড়া ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হল সংসদ নির্বাচনে তিনি শিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে সূর্যসেন হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নির্বাচন করে বিজয়ী হন। অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৬ সালের ৫ মার্চ নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি নিজেকে শিবির প্যানেল থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবেও উল্লেখ করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সূর্যসেন বিতর্ক ধারার সভাপতি থাকা অবস্থায় জাবির ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।


এ বিষয়ে সূর্যসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল ওয়াজেদ বলেন, “জাবির সূর্যসেন হল ছাত্রশিবিরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পাদক পদে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সূর্যসেন বিতর্ক ধারার সভাপতি হন। পরে সভাপতি থাকা অবস্থাতেই হল সংসদ নির্বাচনে শিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে অংশ নেন। এমনকি নিজেকে শিবির প্যানেল থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে প্রকাশ করার পরও তিনি সূর্যসেন হল বিতর্ক ধারার সভাপতির দায়িত্বে বহাল ছিলেন, যা গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী।”


শিক্ষার্থীদের একটি অংশের অভিযোগ, ছাত্রশিবির তাদের হল কমিটি প্রকাশ না করায় সংগঠনটির অনেক হল সভাপতি ও সম্পাদকীয় পর্যায়ের নেতা বিশ্ববিদ্যালয় ও হলভিত্তিক বিভিন্ন ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ পদে অবস্থান করছেন।


সূর্যসেন হলের আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী সৌরভ বলেন, “রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার পরও নিজেদের অরাজনৈতিক হিসেবে উপস্থাপন করার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।” তিনি ছাত্রশিবিরের হল কমিটি প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অচিরেই হল কমিটি ঘোষণা করা হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদ্যমান আস্থাহীনতা ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে।”