স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল


কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছাইরাখালী এলাকায় প্রেমিকের বাড়ি থেকে এক তরুণীকে উদ্ধারের সময় পুলিশের লাঠিপেটার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার মুখে চকরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আরকানুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।


শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই তাকে চকরিয়া থানা থেকে প্রত্যাহার করে কক্সবাজার জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।


বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশ। তিনি বলেন, অভিযোগ ওঠার পর এসআই আরকানুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদগাঁও উপজেলার এক তরুণীর সঙ্গে চকরিয়ার ছাইরাখালী এলাকার নুরুল আমিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি ওই তরুণী পরিবারের অমতে নুরুল আমিনের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন। পরে মেয়ের পরিবার চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়।


অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার বিকেলে পুলিশ তরুণীকে উদ্ধারে গেলে তিনি পুলিশের সঙ্গে যেতে অস্বীকৃতি জানান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, প্রথম দফায় ব্যর্থ হওয়ার পর এসআই আরকানুল ইসলামের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।


স্থানীয়দের দাবি, নুরুল আমিনকে বাঁচাতে গেলে তরুণীকেও মারধর করা হয়। লাঠিপেটায় নুরুল আমিন গুরুতর আহত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।



 আহত নুরুল আমিন


এদিকে, ১৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, এক পুলিশ কর্মকর্তা ঘরের ভেতরে এক তরুণীকে লাঠি দিয়ে আঘাত করছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।


ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা পুলিশের ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।


তবে পুলিশের একটি সূত্র বলছে, উদ্ধার অভিযানের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল। একজন ভিক্টিমকে উদ্ধার করতে গিয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ঘটনার আংশিক অংশমাত্র—পুরো প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়া উচিত।


এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ পুলিশের আচরণকে অযৌক্তিক বলছেন, আবার কেউ বলছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ চাপের মধ্যে ছিল।


ছাইরাখালী এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মুমিন বলেন, “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ পুলিশেরও নেই। কোনো অভিযোগ থাকলে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।”


এ বিষয়ে চকরিয়া থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।