নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা


রাজধানীর কাফরুলের পূর্ব শেওড়াপাড়ায় চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটের আঘাতে গুরুতর আহত তরুণ সাজিদ চৌধুরী রাফি (২১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তাঁর মৃত্যু হয়।


রাফির মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের দাবি, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়; পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছিল।


ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, সোমবার সকাল ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাফির মৃত্যু হয়। তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।


নিহত রাফি রাজধানীর কাফরুল থানার ইব্রাহিমপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। তাঁর বাবা শামসুল চৌধুরী ও মা তানিয়া সিকদার।


পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুন দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন রাফি। পূর্ব শেওড়াপাড়ার আশরাফ আলী গলির কাছে পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর পথরোধ করে। একপর্যায়ে চলন্ত মোটরসাইকেলে থাকা অবস্থায় তাঁর মাথার ডান পাশে ইট ছুড়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি সড়কে পড়ে যান।




ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, হামলার পর আহত রাফিকে একটি অটোরিকশায় তুলে দেওয়া হচ্ছে। একই সময় তাঁর মোটরসাইকেল সরিয়ে নিতে দেখা যায় হামলাকারীদের একজনকে।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা স্থানীয় লোকজনকে বিভ্রান্ত করতে প্রথমে দাবি করেছিল যে, একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে রাফি আহত হয়েছেন। তবে সিসিটিভি ফুটেজ ও তদন্তে পরে হামলার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।


প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, পূর্বশত্রুতার জের ধরেই এই হামলা চালানো হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার এর আগে জানিয়েছিলেন, গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান আসামি পারভেজ একসময় রাফিদের বাসার ভাড়াটিয়া ছিলেন। পারভেজ ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ নিয়ে রাফির সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। এ নিয়ে রাফিকে একাধিকবার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।


হামলার ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে কাফরুল থানায় মামলা করেন রাফির চাচা নুর হোসেন। মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে মো. পারভেজ, আনোয়ার হোসেন বাবু এবং মো. ফয়সাল ওরফে কালুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা বর্তমানে কারাগারে আছেন। অপর আসামি আমিন এখনো পলাতক।


কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “রাফি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”


পুলিশ জানিয়েছে, রাফির মৃত্যুর পর মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে। একই সঙ্গে পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


পরিবারের সদস্যরা বলছেন, একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে তারা নিঃস্ব হয়ে গেছেন। হামলায় জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।