স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় পরিত্যক্ত একটি মর্টারশেল বিস্ফোরণে সতনাইং তঞ্চঙ্গ্যা (১২) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বাইশফাঁড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শিশুটির পরিবার কয়েক বছর আগে মিয়ানমার থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে এসে ওই এলাকায় বসতি গড়ে তোলে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে কিশোরের বাবা-মা জুমচাষের কাজে গেলে সতনাইংকেও সঙ্গে নেওয়া হয়। সীমান্ত পিলার-৯ এর কাছাকাছি, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটি জুমখেতে জুমঘর নির্মাণের সময় সে মাটিতে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত মর্টারশেল খুঁজে পায়। সেটি নিয়ে খেলতে গিয়ে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় এবং দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা মরদেহের অংশ উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দেন।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার পুলিশ পরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
স্থানীয়দের মতে, সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ ও স্থলমাইনের ঝুঁকি রয়ে গেছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। এর আগে গত ২৪ মে একই উপজেলার ভালুকিয়া এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিনজন বাংলাদেশি বাগানশ্রমিক নিহত হন। এছাড়া ওই এলাকায় আরও কয়েকজন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, যা সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবিক ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত কিশোরের পরিবার মিয়ানমারের মংডু টাউনশিপের ডেকিবুনিয়া থানার মেদাই গ্রামের বাসিন্দা ছিল। সেখানে সহিংস পরিস্থিতির কারণে তারা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে এসে প্রথমে আত্মীয়ের আশ্রয়ে থাকে এবং পরে বাইশফাঁড়ি এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।
এ ঘটনায় ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ও নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।