চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি | ক্রাইম ক্রনিকল।
সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমানকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ক্যাম্পাস সংলগ্ন জোবরা এলাকায় এক ছাত্রীসহ ‘আপত্তিকর অবস্থায়’ স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়ার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল এই সিদ্ধান্ত নেয়।
গতকাল রোববার (২৪ মে) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।
সাকিফ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২১-২০২২ সেশনের শিক্ষার্থী। স্থানীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৩ মে) গভীর রাতে জোবরা এলাকার চৌধুরী পুকুর ২নং রোডের কে. জে. এম টাওয়ারের পাশের একটি ভবন থেকে সাকিফ ও চবির এক নারী শিক্ষার্থীকে আটক করে স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই বাসাটিতে ছাত্রদল নেতা সাকিফ ভাড়া থাকতেন। আটকের পর উত্তেজিত জনতা তাকে গণধোলাই দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়— বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে চবি শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাকিফকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। একই সাথে ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সাথে কোনো প্রকার সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের হাতে হাতেনাতে ধরা পড়ার পর সাকিফ নিজের দোষ ঢাকতে এবং পূর্ব শত্রুতার জেরে ছাত্রদলেরই অন্য এক কর্মীকে এই ঘটনায় ফাঁসানোর চেষ্টা করেছেন বলে ক্যাম্পাসে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বহিষ্কৃত আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমান গত বছর অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে 'আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক' পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।এর মাত্র দুদিন আগে গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) চাকসুর উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্যান্টিনে পর্দাশীল নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ছাত্রী কর্নার’ চালু করা হলে, তা নিয়ে ফেসবুকে ব্যঙ্গাত্মক ও কটূক্তিমূলক পোস্ট দেন সাকিফ। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও অসন্তোষ চলছিল। এর রেশ কাটতে না কাটতেই নৈতিক অবক্ষয়ের এই ঘটনাটি সামনে এলো।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডি জানিয়েছে, ক্যাম্পাসের সার্বিক শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে যেকোনো ধরনের অনৈতিক ও বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখা হবে। ঘটনাটি নিয়ে ক্যাম্পাসে ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে এখনো চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।
তবে প্রশ্ন উঠেছে ছাত্রদলের সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা ভঙ্গের ইন্টারপ্রিটেশান নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের একজন সদস্য আরেকজন বিপরীত লিঙ্গের সাথে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা গেলে তা কী করে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ হিসেবে গন্য হয় তার ব্যাখ্যা কেন্দ্রীয় ছাত্রদল দেয়নি।
ছাত্রদলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা সাধারণত ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পর্কে হস্তক্ষেপ করে না, যতক্ষণ না তা প্রতিষ্ঠানের নীতি, আইন বা অন্য কারও অধিকার লঙ্ঘন করে।
কেবল ঘনিষ্ঠ অবস্থান বা বন্ধুত্বকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ বলা যুক্তিসঙ্গত নয়। এ ধরনের অলিখিত নিয়ম ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও গোপনীয়তার অধিকার (রাইট টু প্রাইভেসি) পরিপন্থী এবং বৈষম্যমূলক। প্রশ্নটি তোলার কারণ হলো, অনেক ক্ষেত্রেই সামাজিক বা ধর্মীয় গোঁড়ামির ভিত্তিতে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর অযথা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যা একজন শিক্ষার্থীর সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।