নিজস্ব প্রতিবেদক | ব্রাহ্মণবাড়িয়া


সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদে এক মানববন্ধনে সংসদ সদস্য ব‍্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বক্তব্য রাখেন।সেখানে তিনি বলেন,‘শিশুকে ধর্ষণ থেকে রক্ষা করতে না পারা রাষ্ট্র সিনেমা বন্ধে এত সক্রিয় কেন?’ 


এছাড়াও বাংলার শিল্প সংস্কৃতির উপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি কিছু বক্তব্য রাখেন। বাংলার আবহমান সংস্কৃতি এবং ইসলামের ভারসাম্য রক্ষায় সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান।বক্তব্যে তিনি জানান- ‘এই বাংলাদেশে আমরা যেমন আজানের সুমধুর সুর শুনেছি, একইভাবে বাউল সঙ্গীতও শুনেছি। এই বাংলাদেশে সকালবেলায় যেমন কোরআন তেলাওয়াত শুনেছি আবার হারমোনিয়ামের সুরও শুনেছি। তাহলে আজ কারা দেশে মৌলবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়?’



মানববন্ধনে রুমিন ফারহানা। ছবি: সংগৃহীত 


উক্ত বক্তব্য কেন্দ্র করে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।বক্তব্যে ইসলামের পবিত্র বিষয়সমূহকে অবমাননা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছে কওমী ঐক্য পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।


রোববার (১ জুন) সংগঠনটির এক জরুরি বৈঠক শেষে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে আয়োজিত একটি মানববন্ধনে রুমিন ফারহানা কোরআন তেলাওয়াত ও আজানকে হারমোনিয়াম, বাদ্যযন্ত্র এবং বাউল গানের সঙ্গে একই প্রসঙ্গে উপস্থাপন করেছেন। কওমী ঐক্য পরিষদের দাবি, এ ধরনের বক্তব্য মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।



কওমী ঐক্য পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া’র জরুরী মিটিং। ছবি: সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সংগৃহীত 


বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও আজানের মতো ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অন্য সাংস্কৃতিক উপাদানের সঙ্গে একই পরিসরে উপস্থাপন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।সংগঠনটি এ বিষয়ে রুমিন ফারহানাকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।


কওমী ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, বৃহত্তর মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী একজন জনপ্রতিনিধির বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভের জন্ম দিতে পারে। একই সঙ্গে তারা সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, উক্ত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট বক্তব্য প্রদানকারী এবং সংশ্লিষ্ট ফিল্ম সোসাইটিকেই বহন করতে হবে।


মাওলানা আলী আযম কাসেমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুহাদ্দিস মুফতি মারুফ কাসেমী, মুফতি শরিফ উদ্দিন আফতাবী, মাওলানা আব্দুল হাফিজ, মুফতি আব্দুর রাকিব, মাওলানা ইউসুফ ভূইয়া, মাওলানা জুনাইদ কাসেমী, মুফতি এরশাদুল্লাহ কাসেমী, মুফতি যুবাইর সাইফুল্লাহ, মাওলানা ইমতিয়াজ আহমদ, মাওলানা সৈয়দ কাসেম, মাওলানা ইফতিখার জামীল, মাওলানা ইকরামুল মারজানসহ কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

বৈঠক শেষে কওমী ঐক্য পরিষদ দায়িত্বশীল মহলকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানায় এবং সামাজিক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখার জন্য সবাইকে সংযত থাকার অনুরোধ করে।