রাজনীতি ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল

ঈদের ছুটি শেষে সরকারি অফিস খোলার প্রথম কর্মদিবসেই পদত্যাগ করেন সদ্য সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তার আকস্মিক পদত্যাগকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা গুঞ্জন ও জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়। এমনকি তাকে পুনর্বহালের দাবিতে রাঙামাটিতে টানা দুই দিন সড়ক অবরোধ কর্মসূচিও পালিত হয়।

পদত্যাগের পর এতদিন নীরব থাকা দীপেন দেওয়ান অবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। বুধবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে দেওয়া ওই পোস্টটি মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

পোস্টে তিনি বলেন, তার পদত্যাগকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ সম্পর্কে তিনি অবগত। তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে উসকানি, বিভ্রান্তি কিংবা সংঘাতের পথে না যাওয়ার অনুরোধ জানান।

দীপেন দেওয়ান উল্লেখ করেন, তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। জিয়াউর রহমানের আদর্শ, দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রচিন্তা তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম অনুপ্রেরণা। তিনি আরও বলেন, বিএনপিই তার রাজনৈতিক আদর্শের ঠিকানা এবং জীবনের অবশিষ্ট সময় তিনি দলের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে চান। ব্যক্তিগত কিংবা রাজনৈতিক যেকোনো পরিস্থিতিতেই দলের প্রতি তার আনুগত্য ও অঙ্গীকার অটুট থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে দীপেন দেওয়ান বলেন, ব্যক্তি নয়, জনগণের কল্যাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু বিভেদ নয়; প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, তবে সংঘাত নয়। পার্বত্য অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পাহাড়ি ও বাঙালিসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ যেন শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমে সম্প্রীতি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

তবে তার আকস্মিক মন্ত্রিত্ব ত্যাগের পর বিএনপিতে থাকার অঙ্গীকার প্রকাশ করে ফেসবুকে এ ধরনের পোস্ট দেওয়ার কারণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে নানা আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।

পোস্টের শেষাংশে দীপেন দেওয়ান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন এবং তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে বিএনপিকেই নিজের ‘শেষ ঠিকানা’ বলে উল্লেখ করে তিনি পোস্টের ইতি টানেন।