স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল
বাগেরহাটের চিতলমারীতে একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে এক ছাত্রনেতাকে থানায় নিয়ে মুচলেকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মশিউর রহমান খানকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ‘হারানো বিজ্ঞপ্তি’ পোস্ট দেওয়ার পর তাকে চাপ প্রয়োগ ও হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর বাগেরহাট জেলা শাখার প্রকাশনা ও দফতর সম্পাদক এবং চিতলমারী উপজেলা শাখার সভাপতি রনি বিশ্বাস গত ১৩ জুন সকালে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সংসদ সদস্যকে নিয়ে একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট দেন। পোস্টটি সামাজিকভাবে আলোচনার জন্ম দিলে স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা তৈরি হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, পোস্ট প্রকাশের পর স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীরা তার পরিচয় শনাক্ত করেন এবং পরে তাকে বিভিন্নভাবে অনুসরণ করা হয়। সন্ধ্যার দিকে তাকে চিতলমারী বাজার এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
রনি বিশ্বাস আরও দাবি করেন, থানায় দীর্ঘ সময় তাকে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে মুচলেকা দিয়ে একটি লিখিত বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়, যেখানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি—এমন কথা উল্লেখ করতে বলা হয়।
পরে তার অভিভাবক ও সংগঠনের নেতারা থানায় উপস্থিত হলে পরিস্থিতি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। রাতের শেষভাগে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং পরে সংসদ সদস্যের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মো. মশিউর রহমান খান স্বীকার করেন যে তার পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। তবে বিস্তারিত মন্তব্য দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।
স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতেই তাকে থানায় রাখা হয়েছিল এবং পরে অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অন্যদিকে চিতলমারী থানার ওসি (তদন্ত) রোকেয়া খানম জানিয়েছেন, পুলিশ তাকে আটক করেনি; বরং স্থানীয়রাই তাকে থানায় নিয়ে এসে বিষয়টি মীমাংসা করে নেয়।