স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল
লালমনিরহাটের তিনটি পৃথক সীমান্ত এলাকা দিয়ে একযোগে ৩৩ জন নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে বিএসএফ। তবে বিজিবি জোরালো প্রতিরোধ এবং তাৎক্ষণিক সতর্ক অবস্থানের কারণে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশে বাধা পাওয়া ব্যক্তিরা বর্তমানে ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে ও শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
বিজিবি ও সীমান্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে, আজ শুক্রবার ভোর থেকে সকালের মধ্যে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও আদিতমারী উপজেলার সীমান্ত চৌকিগুলোর কাছাকাছি এই ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, বিএসএফ সদস্যরা ভারতের অভ্যন্তর থেকে বিভিন্ন দলে ভাগ করে এই মানুষদের বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে আসে।
হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ও পয়ষট্টিবাড়ি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে সবচেয়ে বড় দলটি ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়। এর মধ্যে বড়খাতায় ৩ জন পুরুষ ও ৮ জন নারী এবং পয়ষট্টিবাড়িতে ৫ জন পুরুষ ও ৫ জন নারীসহ মোট ২১ জন ছিলেন। বিজিবির টহল দল সময়মতো অবস্থান নেওয়ায় তারা জিরো লাইন পার হতে পারেনি।
অন্যদিকে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দুর্গাপুর ও দিঘলটারী বর্ডার আউটপোস্ট সংলগ্ন সীমান্ত পিলার ৯২৫ এবং ৯২৭-এর কাছে আরও ১২ জনের একটি দলের গতিবিধি নজর কাড়ে বিজিবির।
দুর্গাপুর সীমান্তে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জটলা দেখা মাত্রই বিজিবি সদস্যরা হ্যান্ডমাইকের মাধ্যমে ভারতীয় অংশে কড়া বার্তা পাঠান। বাংলাদেশের ভূখণ্ডে যেকোনো ধরনের অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি জিরো-টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে মাইকিং শুরু করলে অনুপ্রবেশকারীরা থমকে দাঁড়ায়। বিজিবির এমন অনড় অবস্থানের মুখে তারা সীমান্ত অতিক্রম করার সাহস পায়নি।
বিজিবি জানিয়েছে, ভারতের ৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের এই আকস্মিক ও একতরফা পদক্ষেপের পর পুরো লালমনিরহাট সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সীমান্তে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে এবং পুশইনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের সঠিক পরিচয় ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করে টহল জোরদার করা হয়েছে।