নিজস্ব প্রতিবেদক। ক্রাইম ক্রনিকল
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর ও আশপাশের এলাকাকে সন্ত্রাসমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর ও আশপাশের এলাকা নিয়ে আলোচনা সমালোচনা তুঙ্গে। এই এলাকা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দখলমুক্ত করতে তৎপরতা চালাচ্ছে প্রশাসন। এর আগে ২০১৭ এবং ২০২২ সালে প্রশাসন এই এলাকাটি অপরাধমুক্ত ও উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গিয়ে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের বাধার মুখে ব্যর্থ হয়।
চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয় র্যাব-৭-এর একটি দল। ওই হামলায় র্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন এবং তিনজনকে জিম্মি করে মারধর করা হয়।
এই ঘটনার পর গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের এক বিশাল যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। সেই অভিযানে দীর্ঘ কয়েক দশক পর জঙ্গল সলিমপুরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় প্রশাসন। উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ সরকারি জমি এবং গ্রেপ্তার করা হয় ২২ জনকে।
যৌথ অভিযানের পর সরকার এই এলাকায় পুলিশ ও র্যাবের জন্য দুটি স্থায়ী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দেয়। এরই অংশ হিসেবে আলীনগরে র্যাবের একটি ক্যাম্প তৈরির কাজ চলছিল, যা সম্প্রতি ২৫ রাতের আঁধারে সন্ত্রাসীরা গুঁড়িয়ে দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ রোববার সকালে জঙ্গল সলিমপুর এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুর আর কোনো বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর এলাকা বা অভয়ারণ্য হিসেবে থাকবে না। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই এলাকায় রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ সময় ভূমি ও পার্বত্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরের আশপাশে বেতুয়া ও চা–বাগান নামে দুটি পাহাড়ি এলাকা রয়েছে। এসব এলাকায়ও সন্ত্রাসীদের আনাগোনার তথ্য পেয়েছে সরকার। ফলে শুধু জঙ্গল সলিমপুর নয়, আশপাশের এলাকাগুলো থেকেও সন্ত্রাসীদের উচ্ছেদ করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘পরিকল্পিত যৌথ অভিযানের মাধ্যমে শুধু জঙ্গল সলিমপুর নয়, সারা দেশেই মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই চারটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নির্মূলের চেষ্টা করা হবে।’
বিদ্যমান জুয়া আইন দিয়ে বর্তমান সময়ের অনলাইন–নির্ভর ও আধুনিক পদ্ধতির জুয়া নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আইনটি দুর্বল হওয়ায় এসব কার্যক্রম কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যাচ্ছে না। এ কারণে আগামী সংসদ অধিবেশনে নতুন আইন বা সংশোধনী আনার চেষ্টা করা হবে।’ মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনেও সংশোধনী আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাদক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। বর্তমানে বহু মাদক মামলা বছরের পর বছর ধরে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে।’
কিশোর গ্যাং দমনে আইনি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিদ্যমান আইনের সুযোগ নিয়ে অনেক কিশোর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এবং তারা ভয়ংকর সন্ত্রাসীতে পরিণত হচ্ছে। এ বিষয়ে আইন সংস্কার করা হবে।’