স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল


বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণ যখন ঘুমিয়ে যায়, তখন তেলের দাম বাড়ানো হয়। এক মাসের ব্যবধানে আবারও পাঁচ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে। এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ও জুলুম।


মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট সদর উপজেলার সোনাতলা গ্রামে ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যার শিকার চার বছরের শিশু ফাহিমার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও সমবেদনা জানান তিনি। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।


শফিকুর রহমান বলেন, সামনে বাজেট অধিবেশন ছিল। সেখানে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত। কিন্তু সরকার তা না করে তড়িঘড়ি করে পাশ কাটিয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে।


দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, “দেশ ভালো নেই। এত মানুষের আত্মত্যাগের পর যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বাস্তবতা এখন তার বিপরীতে অবস্থান করছে। তবে পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, আমরা জনগণের পক্ষে থেকে লড়াই চালিয়ে যাব।”


এ সময় দেশে হামের প্রকোপ ও শিশু মৃত্যুর ঘটনাতেও উদ্বেগ জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতির দায় শুধু আগের অন্তর্বর্তী সরকারের নয়, বর্তমান সরকারেরও রয়েছে।


শিশু ফাহিমা হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া ধীরগতির অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, ঘটনার ২৮ দিন পার হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। দ্রুত চার্জশিট দাখিল ও বিচার শেষ করার দাবি জানান তিনি।


তিনি বলেন, “পল্লবীর ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেভাবে বিচারের আশ্বাস দিয়েছিলেন, এই শিশুর ক্ষেত্রেও তেমন দৃশ্যমান উদ্যোগ প্রয়োজন।”


নির্যাতিতদের পাশে থাকার প্রত্যয় জানিয়ে তিনি বলেন, “ভুক্তভোগী কোন দল, মত বা ধর্মের—সেটা আমাদের বিবেচ্য নয়। আমরা মানুষ হিসেবেই দেখি। দেশের যেখানেই নির্যাতন হবে, সেখানেই জামায়াতে ইসলামী মানুষের পাশে দাঁড়াবে।”


সমাজে ধর্ষণ ও সহিংসতার বিস্তার রোধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত না হলে তাদের দৌরাত্ম্য আরও বাড়বে।”


সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সরকার জনগণের পাহারাদার। কিন্তু তারা জনগণকে ভাড়াটিয়া মনে করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব অপরাধীদের খুঁজে বের করা, আর আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব বিচার নিশ্চিত করা।”


তিনি আরও বলেন, স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী মূল আসামির পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।


এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, জেলা আমির হাবিবুর রহমানসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


গত ৬ মে সিলেট সদর উপজেলার ওই শিশু নিখোঁজ হয়। দুই দিন পর বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির মা হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে মামলা করেন।


পরে ১১ মে জাকির হোসেন (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি জানান, ধর্ষণচেষ্টার সময় শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ স্যুটকেসে ভরে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।