ইতিহাস ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল 


বিজ্ঞানের ইতিহাসে ২২ জুন একটি স্মরণীয় ও বিতর্কিত দিন। ১৬৩৩ সালের এই দিনে ইতালীয় বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলিইকে ধর্মদ্রোহিতার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে রোমান ক্যাথলিক চার্চের ধর্মীয় আদালত। তাঁর অপরাধ ছিল কোনো সহিংসতা বা ষড়যন্ত্র নয়; বরং মহাবিশ্ব সম্পর্কে প্রচলিত ধারণার বিপরীতে বৈজ্ঞানিক সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়া।


গ্যালিলিও তাঁর পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে সমর্থন করেছিলেন সেই সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্ব, যেখানে বলা হয় পৃথিবী নয়, সূর্যই সৌরজগতের কেন্দ্র এবং পৃথিবী সূর্যের চারদিকে আবর্তিত হয়। সে সময় চার্চের প্রতিষ্ঠিত মত ছিল পৃথিবীকেন্দ্রিক মহাবিশ্বের ধারণা। ফলে গ্যালিলিওর গবেষণা ধর্মীয় কর্তৃত্বের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।


১৬৩২ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ Dialogue Concerning the Two Chief World Systems-এ তিনি সূর্যকেন্দ্রিক ও পৃথিবীকেন্দ্রিক মতবাদের তুলনামূলক আলোচনা করেন। চার্চের অভিযোগ ছিল, বইটিতে তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্বকে সমর্থন করেছেন।


এর পরিপ্রেক্ষিতে ৭০ বছর বয়সী গ্যালিলিওকে রোমে বিচারকের মুখোমুখি করা হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ ও চাপের মুখে তাঁকে নিজের মতবাদ প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়। ২২ জুন ঘোষিত রায়ে তাঁকে ধর্মদ্রোহিতার প্রবল সন্দেহভাজন হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়, তাঁর বই নিষিদ্ধ করা হয় এবং আজীবন গৃহবন্দিত্বের আদেশ দেওয়া হয়।


জীবনের শেষ নয় বছর গৃহবন্দি অবস্থায় কাটান গ্যালিলিও। কিন্তু তাঁর উপস্থাপিত বৈজ্ঞানিক সত্যকে থামিয়ে রাখা যায়নি। পরবর্তীকালে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞান তাঁর গবেষণাকেই সঠিক বলে প্রমাণ করে।


আজ, বিচারের ৩৯৩ বছর পর, গ্যালিলিওর ঘটনা শুধু একজন বিজ্ঞানীর ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়; এটি জ্ঞান, যুক্তি ও স্বাধীন চিন্তার পক্ষে মানবসভ্যতার দীর্ঘ সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক প্রতীক।