আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের ইটানগর ক্যাপিটাল রিজিয়নে (আইসিআর) প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন না থাকার অভিযোগে ১৫টি মসজিদ ভবন সিলগালা ও বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন।
অরুণাচল প্রদেশ সরকারের মুখপাত্র ও ক্যাবিনেট মন্ত্রী পাসং দোর্জি সোনা ৪ জুন বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, "চিহ্নিত ১৫টি মসজিদের মধ্যে ১২টি আগেই জেলা প্রশাসন সরাসরি সিলগালা করেছিল। বাকি ৩টি ব্যক্তিগত জমিতে থাকায় সেগুলোর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গত ৩ জুন বুধবার বন্ধ করে দেওয়া হয়।"
স্থানীয় আদিবাসী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের বিক্ষোভ, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং আল্টিমেটামের মুখে রাজ্য সরকার এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবকটি ধর্মীয় স্থাপনা বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করার পর, সংশ্লিষ্ট আদিবাসী যুব সংগঠন আজ শুক্রবার ৫ জুন থেকে ডাকা তাদের পূর্বঘোষিত ২৪ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
আইসিআরের সহকারী কমিশনার তামো দাদা এবং ডেপুটি কমিশনার তোকো বাবু গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়াটি হুট করে নেওয়া হয়নি, বরং সুনির্দিষ্ট আইনি ধাপ অনুসরণ করে করা হয়েছে।
গত ৩০ জানুয়ারি আইসিআর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা কমিটিকে একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে তাদের বৈধ নিবন্ধন, ভূমির মালিকানার নথিপত্র, ভবন নির্মাণের অনুমতি এবং অন্যান্য বিধিবদ্ধ ছাড়পত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মসজিদ কর্তৃপক্ষ সেসব বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শনে ব্যর্থ হলে, গত ২৮ মে দ্বিতীয় দফায় আরেকটি চূড়ান্ত নোটিশ ইস্যু করা হয়। সেই নির্দেশনায় সব ধরনের নির্মাণকাজ ও ধর্মীয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে বলা হয়েছিল। এরপরও শর্ত পূরণ না করায় পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে পর্যায়ক্রমে সবগুলো স্থাপনা সিলগালা করা হয়।
চলতি বছরের ১৩ ও ২৭ জানুয়ারি 'অরুণাচল প্রদেশ ইন্ডিজেনাস ইয়ুথ অর্গানাইজেশন' (APIYO) সহ স্থানীয় বেশ কয়েকটি আদিবাসী সংগঠন মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুর সঙ্গে দেখা করে একটি স্মারকলিপি দেয়। তাদের অভিযোগ ছিল, আদিবাসী-অধ্যুষিত এই পার্বত্য রাজ্যে বহিরাগতদের আগমন ঘটছে এবং অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন ধর্মীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে, যা স্থানীয় সংস্কৃতির জন্য হুমকিস্বরূপ।
সংগঠনগুলোর দাবির মুখে মুখ্যমন্ত্রী জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তদন্তে ক্যাপিটাল কমপ্লেক্স এলাকায় মোট ১৫টি এমন স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়।
মন্ত্রী পাসং দোর্জি সোনা উল্লেখ করেন, যেহেতু আন্দোলনকারী সংগঠনের মূল দাবিটি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূরণ হয়েছে, তাই জনজীবন বিপর্যস্ত করে ধর্মঘট ডাকার আর কোনো যৌক্তিকতা নেই। সরকারের এই বিবৃতির পর পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।