আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। গত এপ্রিল মাসের পর এই প্রথম সরাসরি সংঘাতের অংশ হিসেবে ইরানের অভ্যন্তরে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। দেশটির সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের পশ্চিমাঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চলের বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে এই হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইসরাইলে 'টানা এক সপ্তাহব্যাপী' ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘোষণা দিয়েছে।
এর আগে ইসরাইলকে সংযত থাকার এবং ইরানে পাল্টা হামলা না চালানোর জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের বরাতে জানা যায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকেও সতর্ক করে বলেছিলেন, "অনেক হয়েছে, আর নয়।" তবে ওয়াশিংটনের সেই যুদ্ধবিরতির চেষ্টা এবং মার্কিন প্রভাবকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই তেল আবিব এই বিমান হামলা সম্পন্ন করল।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননের বৈরুতে ইসরাইলের সাম্প্রতিক আগ্রাসন এবং ইরানের অভ্যন্তরে এই সরাসরি হামলা প্রমাণ করে যে, নিজের মিত্রের ওপর ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণ কতটা সীমিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামানোর জন্য মার্কিন প্রশাসনের হাতে বিকল্প পথ আরও সংকুচিত হয়ে গেল।

ইসরাইলি বিমান হামলার জবাব দিতে ইরান ইতিমধ্যেই ইসরাইলের উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে কয়েক দফায় ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি, অধিকাংশ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রই আকাশে ধ্বংস (ইন্টারসেপ্ট) করা সম্ভব হয়েছে। হামলার সময় ইসরাইল জুড়ে সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের নিরাপদ বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় নাগরিকদের বাঙ্কার থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তবে পরিস্থিতি এখনো থমথমে। ইরানের আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, উত্তরাঞ্চলে চালানো এই হামলা কেবল শুরু মাত্র; এটি মূলত ইসরাইলের ওপর "টানা এক সপ্তাহব্যাপী অবিরাম হামলার" সূচনা।
গত রবিবার সকালেই বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর আস্তানা লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। সেই হামলার পরপরই ইরান হুঙ্কার দিয়েছিল যে এর চড়া মূল্য দিতে হবে। সেই ধারাবাহিকতায় ইরান প্রথমে ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লে, ইসরাইলও পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের মূল ভূখণ্ডে এই বিমান হামলা চালাল।
দুই আঞ্চলিক পরাশক্তির এই সরাসরি সংঘাতের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক মহাপরমাণু বা আঞ্চলিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্বনেতারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও, দুই দেশের যুদ্ধংদেহী মনোভাবের কারণে পরিস্থিতি যেকোনো সময় আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।