স্পোর্টস ডেস্ক । ক্রাইম ক্রনিকল 


বিশ্বকাপের মাত্র কয়েক দিন আগে আবারও চোটে পড়েছেন ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার জুনিয়র। ফলে তাকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শিবিরে। তবে সব অনিশ্চয়তার মধ্যেও ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি এবং দলীয় চিকিৎসকরা আশাবাদী, বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মাঠে ফিরতে পারবেন এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড।




বিশ্বকাপ শুরুর আগে ব্রাজিলের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে শনিবার (৬ জুন) মিসরের মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা। কিন্তু সেই ম্যাচে খেলছেন না নেইমার। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) নিশ্চিত করেছে, কাফ মাসলের চোটের কারণে তিনি দলের সঙ্গে ক্লিভল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন না। পরিবর্তে নিউ জার্সিতে দলের প্রস্তুতি ক্যাম্পে থেকেই চিকিৎসা ও পুনর্বাসন চালিয়ে যাবেন।


গত ১৭ মে ঘরোয়া লিগের এক ম্যাচে গ্রেড-২ কাফ ইনজুরিতে আক্রান্ত হন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা। এরপর থেকে নিয়মিত চিকিৎসা, ফিজিক্যাল থেরাপি ও বিশেষ পুনর্বাসন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছেন তিনি। সিবিএফের মেডিকেল বিভাগ মনে করছে, এই মুহূর্তে দীর্ঘ ভ্রমণের চেয়ে নিবিড় পুনর্বাসনই তার দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য বেশি কার্যকর হবে।


নেইমারের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও তাকে নিয়ে আস্থা হারাননি ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দলে তার জায়গা ধরে রেখেছেন ইতালিয়ান এই কোচ।


নেইমারকে দলে রাখা নিয়ে সমালোচনার জবাবে আনচেলত্তি বলেন, “আমি যখন দল নির্বাচন করেছি, তখন নেইমার সেই ২৬ জনের মধ্যেই ছিল। আমরা বিশ্বাস করি, সে বিশ্বকাপের শুরুতেই অথবা খুব দ্রুতই মাঠে ফিরতে পারবে। এ নিয়ে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই। তাই দলে কোনো পরিবর্তন আনার পরিকল্পনাও নেই।”


তবে প্রথম ম্যাচে তার খেলা এখনো নিশ্চিত নয়। ব্রাজিলের মেডিকেল টিম আগামী এক সপ্তাহ নেইমারের শারীরিক অবস্থার ওপর নিবিড় নজর রাখবে। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন তার আরেকটি এমআরআই স্ক্যান করা হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


আগামী ১৪ জুন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। এরপর গ্রুপ পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড। প্রথম ম্যাচে নেইমারকে পাওয়া না গেলে সেটি ব্রাজিলের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।


কারণ জাতীয় দলের জার্সিতে নেইমার বরাবরই ছিলেন ব্রাজিলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তারকাদের একজন। ক্লাব ফুটবলে সমালোচনা থাকলেও জাতীয় দলের হয়ে প্রায় সব বড় টুর্নামেন্টেই নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছেন তিনি।


ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার। জাতীয় দলের হয়ে শতাধিক ম্যাচ খেলে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ গোল করেছেন। ২০১৩ সালের কনফেডারেশনস কাপ জয়ে তিনি ছিলেন দলের প্রধান নায়ক। এছাড়া ২০১৬ সালে রিও অলিম্পিকে ব্রাজিলকে ইতিহাসের প্রথম অলিম্পিক স্বর্ণপদক এনে দেওয়ার পেছনেও ছিল তার অসামান্য অবদান। সেই ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে গোল করার পাশাপাশি টাইব্রেকারে জয়সূচক শটটিও নিয়েছিলেন তিনি।


বিশ্বকাপ মঞ্চেও বারবার দলের ভরসা হয়ে উঠেছেন নেইমার। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে অসাধারণ এক গোল করে ব্রাজিলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হয় সেলেসাওদের। সেই ম্যাচেও নিজের সর্বস্ব উজাড় করে খেলেছিলেন নেইমার।


চোটের কারণে ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ও টুর্নামেন্ট মিস করতে হয়েছে তাকে। তাই এবারের বিশ্বকাপকে ঘিরেও সমর্থকদের মধ্যে শঙ্কা রয়েছে। অনেকের ধারণা, বয়স ও শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি হতে পারে তার শেষ বিশ্বকাপ।


তবে ব্রাজিল সমর্থকদের আশা, চোট কাটিয়ে দ্রুত মাঠে ফিরবেন নেইমার। কারণ বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের স্বপ্ন, আবেগ ও প্রত্যাশার বড় একটি অংশ এখনো জড়িয়ে আছে এই তারকার সঙ্গে। আর সে কারণেই বিশ্বকাপ শুরুর আগে সেলেসাও শিবিরে সবচেয়ে আলোচিত নাম এখনো নেইমার।