মানস ও মানসী
তাসনিম হালিম মিম
মৃত হৃদয় সরকারের বাড়িতে চোর ধরা পড়েছে। মফস্বলীয় গ্রামের বাতাসে খবরটা প্রায় আলোর বেগে ছড়ায়। রুস্তম তখন মধ্যাহ্নভোজ সেরে স্টেশন মোড়ের চায়ের দোকানটায় গুলতানি দিচ্ছিল। চোর ধরা পরার খবরে সে তার আশপাশ দিয়ে যাওয়া উৎসুক জনগণের পিলপিলে স্রোতে ঢুকে পড়ে। এরকম সময়ে সরকারবাড়ি যাওয়া এক রকম কর্তব্যই তার জন্য। প্রথমত, সরকাররা তার দূরের প্রতিবেশি। চোরটাকে আচ্ছামতো পিটিয়ে প্রতিবেশির প্রতি তার কর্তব্য পালন করবে। দ্বিতীয়ত, মোমেনার মুখটা অনেকদিন দেখে না সে। আজ এই সুযোগে একবার দেখতে পাবে তাকে। মোমেনার কথা মনে হতে তার ফুরফুরে মনে একটু ঔদাসীন্য মেশে।
সরকার বাড়ির বার-বারান্দা, উঠোন ও আঙিনায় মেলা লোক হয়েছে। এতোক্ষণে চোরটি এক রাউন্ড আড়ং ধোলাই খেয়ে অর্ধমৃত অবস্থায় পুলিশ বা মৃত্যুর আগমনের অপেক্ষা করার কথা। কিন্তু রুস্তম এসে দেখে, সীন ভিন্ন। সমবেত কারো মুখে চোর পেটানোর কোনো আনন্দ নেই। বোকা বোকা চেহারায় জটলা পাকিয়ে নিজেরা গুজগুজ ফুসফুস করছে। রুস্তমের দিকে কেউ কেউ একটু বিশেষ দৃষ্টিতে তাকায়। আগেই হাজির হওয়া সরকারদের আরেক প্রতিবেশি আব্দুল কাদেরের কাছ থেকে ব্যাপার শুনে স্তম্ভিত হয়ে যায় রুস্তম। দুপুরবেলা সরকারদের বাড়ি থেকে মেয়েলি গলায় “চুর চুর চুর” চিৎকার শুনে তারা সবাই দৌড়ে আসে। কিন্তু এ বাড়িতে এসে দেখে, সদর দরজায় বাইরে থেকে খিল আটকানো। দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে তারা তো আশ্চর্য! বাড়িতে হৃদয়ের বউ মোমেনা ছাড়া কেউ নেই। সবাই মিলে আতিপাতি করে খুঁজে একটা ইঁদুরও পেল না। মোমেনা হাসতে হাসতে বার বার জানায়, চোরটা বাইরে থেকে খিল তুলে পালিয়েছে। সে বের হওয়ার চেষ্টা করে, ব্যর্থ হয়ে, ঘটনা বুঝে চিৎকার করে। চোর কি আর এতোক্ষণে এইপাড়ায় আছে নাকি! মোমেনার ব্যাখ্যা শুনে সবাই ব্যর্থ মনোরথে চলেই যেত। কিন্তু দুই-একজন ছোঁড়া উসখুশ করে আশপাশ দেখছিল। এরকম একজন ঝট করে ঘরের জানালা দিয়ে পা গলিয়ে কার্নিশে ওঠে একতলা বাড়ির ছাদে চলে যায়। গিয়েই রাম চিৎকার! ধর ধর- মার মারের মধ্যেই আরো কয়েকটা যুবক ছাদে ওঠে গিয়ে টেনে-হিঁচড়ে সদ্য প্রাপ্ত চোরকে নামিয়ে আনে। কয়েকজন চোরকে চিনতে পারে। এবং আগত জনতা সেই সূত্রে পরিচয় পেয়ে অবশ্য কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। চোরটি পাশের গ্রামের চেয়ারম্যানের ছোট ছেলে, রবিন। চুরির চেয়ে বড় অপরাধে এখন সে অভিযুক্ত। যুবতী বিধবার নির্জন ঘরে তার আগমন ও পরবর্তীতে ছাদে পলায়ন যে নেহাতই সৎ উদ্দেশ্যে, তা অবশ্য কেউ বিশ্বাস করবে না। তাই তা প্রমাণের চেষ্টাও রবিন করে নি।
বিবরণ শুনে রুস্তমের কান ঝা ঝা করে। অন্তরে চাগাড় দিয়ে ওঠতে থাকে পাগলা রাগ। এ যে মোমেনার শোধ এব্যাপারে তার সন্দেহ নেই। রবিনকে খুব করে পেটাতে পারলে তার রাগটা একটু পড়ত। কিন্তু আরো মানুষ উৎসাহ না দেখালে জিনিসটা পেরে ওঠা যাবে না, ভেবে লোকজনের উপরই সে মনে মনে ক্রূদ্ধ হয়ে ওঠে। চোর পেটাতে এদের যতোটা উৎসাহ, চেয়ারম্যানের ছেলেকে পেটাতে ততোটাই অনুৎসাহ, তা সে যত বড় অপরাধই করুক না কেন! ভীড় বাড়তে থাকে। নারীঘটিত কেলেঙ্কারি অহরহই হয়। কিন্তু তা নিয়ে এরকম হৈ চৈ করার সুযোগ সহজে হয়ে ওঠে না। মানুষজনের মুখ তাই উৎসাহে ঝলমল করতে থাকে। অপরাধী যুগলকে নিয়ে সালিশ বসানো ঘরে অনেক কষ্টে ভিড় ঠেলে উঁকি মারার সুসোগ পায় রুস্তম। মোমেনা আর তার মৃত স্বামীর শোবার ঘরেই দুটো স্টিলের চেয়ারে বসানো হয়েছে দুজনকে। চেয়ার দুটির অবস্থান পরস্পর থেকে যথেষ্ট দূরে। তবু দেখে রুস্তমের গা জ্বলে যায়। শড়ির আঁচল টেনে মাথায় দেওয়া মোমেনার নত সুন্দর মুখ পাথরের মতো শক্ত। কিছুটা দূরে বসে আছে রবিনের ভালোমানুষী চেহারাটা। একটু ভয় মেশানো উদভ্রান্তি ফরসা রঙটা মলিন করে এনেছে। শার্টের বাঁ-কাধ ছিড়ে ঝুলে আছে। মনে হয় প্রথম দফার ধস্তাধস্তিটা মূলত কাপড়ের উপর দিয়েই গেছে। তবু ছেলেটাকে খারাপ দেখাচ্ছে না। ঘরের দু কোণার চেয়ারে থাকা এই দুই প্রেমিক-প্রেমিকাকে মাথা নিচু করে থাকা সত্ত্বেও দেখতে ভালো লাগছিল। রুস্তম ঈর্ষার একটা গরম নিঃশ্বাস ছাড়ে। আল্লাহ যে কেন তাকে এমন কুতসিৎ করে বানিয়েছে!
অবশ্য আল্লাহর দোষ কি! মোমেনা তো তার খারাপ চেহারার জন্য তাকে ছেড়ে যায় নি। এই যে ঘরটায় এখন এতোজন হুমড়ি খেয়ে পড়েছে, এখানের কোথায় কি আছে সে খুব ভালো করে জানে। বিছানার নিচের স্টিলের সিন্দুকটার ভেতরের আসবাব পর্যন্ত তার চেনা। জনহীন বাড়ির এ ঘরে কত নিস্তব্ধ দুপুর তারা একসাথে কাটিয়েছে। মোমেনার স্বামী হৃদয় মারা যাওয়ার পর থেকেই অনেক মুগ্ধ পুরুষের লুব্ধ মন ছোঁক ছোঁক করে যেতে থাকে এই ঘরটার আশেপাশে। কিন্তু মোমেনা প্রবেশাধিকার দিয়েছিল শুধু তাকে। এই গোপন প্রেম অবশ্য বজায় রাখা গেল না বেশিদিন। কারণ মোমেনা গোপন থাকতে চায় নি। সে রুস্তমের বউ হতে চেয়েছে। দ্বিতীয় বিয়ে রুস্তম অনায়াসেই করতে পারতো, মোমেনাকে যখন সে তীব্রভাবে চায় এবং ঘরের বউ নার্গিসের প্রতি যখন তার তেমন আকর্ষণ নেই। কিন্তু ছেলে-মেয়েগুলো বড় হয়ে ওঠছে, মা-বাবা বেঁচে, এইসময় একটা বিধবা ছুঁড়ি বিয়ে করে ঘরে তুললে ঘরে অশান্তির শেষ থাকবে না, এলাকায় হাসাহাসির তোড় শুরু হবে। হ্যাঁ, মোমেনাকে সে বোধ হয় ভালোই বাসে, কিন্তু তার জন্য এতো লড়াই করার মানে নেই। মোমেনা তো তারই থাকবে! হিসাবের ভুল ছিল বটে! ব্যাপার বুঝে মুখের উপর দরজা বন্ধ করে উধাও হলো মেয়েটা। রুস্তম ভেবেছিল বটে, রাগ কমলেই আবার ডাকবে। কিন্তু ডাকা তো দূরের কথা, রুস্তমকে জব্দ করতেই যেন সে নতুন প্রেমিক সমেত হাতে-নাতে ধরা দিয়েছে। এ মাস কয়েক আগের কথা।
এ গ্রামের একাধিক মাতবর ইতোমধ্যেই মোমেনা আর রবিনের মাঝে আটসাঁট হয়ে বসেছে। তারা উভয় পক্ষের অভিভাবক আসার অপেক্ষা করে আর থেকে থেকে রবিনকে শাসায়। গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করে, “বিয়া করবা নি শালা?” সালিশ বসার পর থেকেই রবিন এই প্রশ্ন শত বার শুনে ফেলেছে। কিন্তু সে নাকি একবারো উত্তর দেয় নি। এই তথ্যটা জেনে রুস্তমের পুলক লাগে। বৈশাখের দুপুরে শেওলা পড়া পুকুরে ডুব দিয়ে ওঠার স্বস্তি পায়।সে জানে, রবিন বিয়ে করতে রাজি হবে না। মোমেনাও জানুক, রুস্তম খুব খারাপ লোক নয়। সে আর দশটা লোকের মতোই, এমনকি মোমেনার বর্তমান প্রেমিকটির মতোই, সহজ-স্বাভাবিক যে সিদ্ধান্ত, সেটাই নিয়েছিল।
মোমেনার শাশুড়ি নিজের বাপের বাড়ি থেকে এসে পৌছায়।বিধবা হাসনাহেনা বেগম বাপের বাড়িতেই মাসের বেশ কয়েকটা দিন কাটায়। ক্ষুদ্র অবয়বের এই বৃদ্ধাকে দৃশ্যপটে দেখেই এতোক্ষণে নতুন কিছু ঘটার সম্ভাবনায়, জনতার মুখে হাসি ফোটে। সামনের দিকে পিঠ ঝোকানো শাশুড়ি মোমেনার সামনে গিয়ে ফুঁপিয়ে ওঠে, “হারামজাদি, মুখ কালা করলি এইভাবে!” বলেই ধপ করে বিছানায় বসে পড়ে হাঁফাতে থাকে। মোমেনা মুখ তুলে করুন চোখে শাশুড়ির দিকে একবার তাকায় মাত্র। মাতবরেরা মুখ চাওয়াচাওয়ি করে। এতো বড় ঘটনার এই প্রতিক্রিয়া! মোমেনাকে এখন পর্যন্ত মারধর করা হয় নাই। ভদ্রতাবশে এই মহান কর্তব্য শাশুড়ির জন্যই তুলে রাখা হয়েছিল। কিন্তু বুড়ি সেদিকে না গিয়ে, পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বিছানায় পা তুলে বসে দেয়ালে হেলান দিয়ে ঝিমাতে শুরু করেছে।
মোমেনার মা-বাবা নেই। বড় ভাই আর ভাবী ফোনে জানিয়েছে, তারা আসতে পারবে না। মোমেনার যা ইচ্ছা বিচার তারা করতে পারে, তবে তাদের সংসারে পাঠিয়ে যেন বিব্রত না করে। তাই এই আধা-মফস্বলের আধা গেয়ো মানুষদের জীবনের সবচেয়ে উত্তেকজনাকর নাটকের শেষ অঙ্ক উপস্থিত হয় অটোরিক্সা ভর্তি আত্মীয় নিয়ে রবিনের বাপ দবির আলীর হাজিরাতে। দবির আলী হন্তদন্ত হয়ে সালিশ ঘরে ঢুকে রবিনকে এক পলক দেখে। এরপর এ গায়ের মাতবরদের কঠিন ভাবে বলে, “আমার পুতরে সবাই মিল্যা আটকাই রাখছুইন। আপনেগো নামে অপহরণের মামলা করবার পারি।” আগুনে ঘি পড়ল! আগে থেকেই পরস্পরকে দেখতে না পারা দুপক্ষের তুমুল ঝগড়া শুরু হয়ে যায়। এগ্রামের মাতবরদের বক্তব্য, ছেলেকে যে পুঁতে ফেলে নি এই দবির আলীর বাপের ভাগ্য। এ গ্রামের মেয়ে-বউয়ের সাথে নষ্টামি! তারা নেহাত ভদ্রলোক বলে, শুধু বিয়ে পড়িয়ে দিয়ে বিষয়টার সমাধান করতে চায়। ও গ্রামের চেয়ারম্যান দবির আলী গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে, কিসের বিয়ে! তার ছেলে জোয়ান, সে অমন একটু করতেই পারে। এই মেয়ে ডাকিনী, তার সহজ-সরল ছেলেকে ফাঁদে ফেলেছে। এই বিধবা বুড়ির সাথে বিয়ে দিয়ে তার ছেলের সুন্দর জীবন সে নষ্ট করতে পারবে না। তাছাড়া, তার নিজের একটা সম্মান আছে না! মোমেনাকে ‘ডাকিনী’ ডাকায় রুস্তমের একটু মন খারাপ হয়। দবির মিয়া তো আর জানে না, মোমেনার ভালোবাসা কত তীব্র। ওই ভালোবাসাকে দূর লোকদের ডাকিনীর ডাকের মতোই মনে হতে পারে।
তবে পুরো ব্যাপারটা দ্রুত দুই গ্রামের ইজ্জতের বিষয়ে পরিণত হয়। দবির আলীর সরবরাহকৃত আত্মীয়দের সাথে উঠানে এইগ্রামের মানুষদের বাকযুদ্ধ লাগে। গ্রামের প্রেস্টিজের বিষয়টা না আসলে মোমেনার মুখে বোধহয় চুনকালিই দেয়া হতো। কিন্তু এখন পুরো ব্যাপারটার মোড় পালটে গেছে। সমবেত ঝগড়া হাতাহাতির দিকে যেতেই সালিশ ঘরে রবিনের মিনমিনে গলা শোনা যায়, “আব্বা, আমি মোমেনারে বিয়া করবাম।” রবিনের বাপ স্তম্ভিত হয়ে বাঘের গর্জন ছাড়ে, “হারামজাদা, একটা কথা বইললে চামড়া তুইল্যা ফেলবাম।” রবিনের পরের ফিসফিসে কথাটা যেন শুধু রুস্তমই শুনতে পায়, “আমি ওরে ভালোবাসি।” এ গায়ের মানুষদের জন্য এটুকুই দরকার ছিল। জোয়ান ছেলে বিয়েতে সম্মতি দিয়েছে জানাজানি হয়ে যাওয়ার দশ মিনিটের মধ্যে গহর কাজীকে স্টেশন এলাকার কাজী অফিস থেকে প্রায় মিছিল করতে করতে নিয়ে আসা হয়। এবং পরের ঘটনাগুলো খুব দ্রুত ঘটতে থাকে। হুংকার-গর্জনে ক্লান্ত হয়ে দবির আলী একসময় ছেলের পাশেই আরেকটা চেয়ারে বসে পড়ে ভাবী পুত্রবধুর সুন্দর মুখটি দেখে পরাজয়ের গ্লানি ভোলার চেষ্টা করে। তার আত্মীয়রা উঠানে কুটুম আদর পেয়ে শুরু করে খোশগল্প। রুস্তমের একমাত্র ভরসা এখন মোমেনার শাশুড়ি। শুধু বুড়ি চাইলেই বিয়েটা আটকে যেতে পারে। সেই তো মোমেনার আসল অভিভাবক। বৃদ্ধা বাথরুমে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হতেই মরিয়া রুস্তম বারান্দায় তাকে ধরে, “এমনে আপনের ছেলের বউরে বিদায় দিয়া দিবেন। কেমন শাউরি আপনে?” বৃদ্ধা হা করে কিছুক্ষণ রুস্তমকে দেখে, তারপর বলে, “ঠিক তো বাবা।” বলেই সুট করে ভেতর বাড়িতে চলে যায়। রুস্তম একটা বিড়ি ধরিয়ে আগ্রহের সাথে সালিশ ঘরের দরজার আড়ালে অপেক্ষা করে। এখন একটা মজা হবে। একটু পর হাসনাহেনা বেগম হাজির হয়। মোমেনার হাতে একটা সবুজ কাতান শাড়ি তুলে দিয়ে বলে, “শাড়িটা বদলাই আও, বউ। ময়লা কাপড়ে বিয়া করবার নাই।” এতোক্ষণ মোমেনা তাকে নিয়ে ঘটতে থাকা অবমাননাকর ঘটনাবলির গ্লানি নত মাথায় নিয়ে শুকনো চোখে নিঝুম হয়ে বসে ছিল। এবার এই সামান্য আদরেই সে ডুকরে কেঁদে ফেলে। দর্শকদের কারো কারো চোখ আর্দ্র হয়ে আসে। ছেলে মারা যাওয়ার পর থেকে মোমেনাই বৃদ্ধার সন্তান হয়ে ছিল।
রাতে রুস্তম ক্ষুধায় টলতে টলতে বাড়ি ফিরছিল। মোমেনার বিয়ে সে দেখে আসে নি ইচ্ছা করেই। কষ্ট হচ্ছিল। তবে পথিমধ্যে খবর পায়, এক লাখ টাকা দেনমোহরে মোমেনার বিয়ে হয়ে গেছে। নার্গিস তার প্রতীক্ষায় বাড়ির বারান্দায় বসে ছিল। রুস্তম খেতে বসলে জিজ্ঞেস করে, “কি হইলো ওই বাড়িত?” বিরক্ত গলায় রুস্তম উত্তর দেয়, “কি হইব আবার। বিয়া লাগাইছে শালারা।” নার্গিস উদাস চোখে রুস্তমকে দেখে, “ভালাই তো। চেয়ারম্যানের পোলার লগে বিয়া। বেশ্যারা সুখেই থাকে সারাজীবন।” রুস্তম হাসে। মোমেনার প্রতি নার্গিসের কটুক্তি ঈর্ষার যে ফোসফোসানি প্রকাশ করে সেটা তার ভালোই লাগে। নিজেকে বিরাট কিছু মনে হয়। সে চোখ টিপে বলে, “এতো কিছু হয়া গেল, গ্যালা না একবার ওই বাড়িত?” নার্গিস হাসে, “যাই নাই মানে! সবার আগে তো আমিই গেছিলাম।” রুস্তম অবাক হয়, “কখন?” “চুর চুর কয়্যা চিৎকার কে দিছিলো? ঐটা তো আমি।” নার্গিস স্বামীর কপালে তোলা চোখের সামনে হাসিতে উচ্ছ্বসিত হয়, “ওই দিকে গেছিলাম অন্য একটা কামে। ওগো দুইজনরে একলগে ঘরের মধ্যে দেইখ্যাই বন্ধ দরজার লক বাইরে থিকা চুপ কইরা লাগায় দিছি। পরে গাছের আড়ালে খাড়ায়া ‘চুর চুর’ কয়া চিৎকার দিয়া ভাগছি। তারপর তো যা করার পাবলিকেই করছে।” নার্গিসের ব্রনভরা গাল তৃপ্তির হাসিতে স্বর্গীয় হয়ে উঠে। রুস্তম চোখ লাল করে বলে, “এরকম করলি ক্যান মাগী?” নার্গিস হাসি থামিয়ে ফোস করে ওঠে, “একশবার করবাম। কি করতা তুমি! ঘেন্না করতা আমারে? আমারে মাগী কস, শয়তান!” রুস্তম মাথা নিচু করে ভর্তায় ভাত মাখতে থাকে। নার্গিস টেবিলফ্যানটা তার দিকে ভালো করে ঘুরিয়ে দিয়ে মাছের তরকারি আনতে উঠে যায়।