ক্রাইম ক্রনিকল ডেস্ক।


বাংলা চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ-এর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর তদন্তে এলো নতুন মোড়। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আদালত কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।


বুধবার (১০ জুন) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ জানান, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে এ আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং পুনরায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে।


তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হবে। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, এই পদক্ষেপ দীর্ঘদিনের বিতর্কিত মৃত্যুর প্রকৃত সত্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় সালমান শাহকে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল মাত্র ২৪ বছর। সেই সময় ঘটনাটি অপমৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত হলেও পরিবার শুরু থেকেই এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছে।


 

এরপর গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদী পক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।


মামলার আসামিরা হলেন সালমান শাহ’র স্ত্রী সামীরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস সাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরো অনেককে আসামী করা হয়েছে। 




পরিবারের অভিযোগ, সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় শুরু থেকেই নানা অসঙ্গতি ছিল। তাদের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নতুন করে মরদেহের ময়নাতদন্তের মাধ্যমে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে আলোচিত এই রহস্যের জট খুলবে বলে আশা করছেন তারা।


বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত মৃত্যু রহস্য হিসেবে পরিচিত সালমান শাহ মামলায় আদালতের এই সিদ্ধান্ত তদন্তকে নতুন মাত্রা দিল। এখন সবার নজর পুনঃময়নাতদন্তের ফলাফল এবং সিআইডির পরবর্তী তদন্ত অগ্রগতির দিকে।