স্পোর্টস ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
পিছিয়ে পড়েও অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে অষ্টম সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।এর মাধ্যমে টিকে থাকল টানা তৃতীয়বার শিরোপা জয়ের স্বপ্নও।

মঙ্গলবার বিকেলে গোয়ার তীব্র গরমের মধ্যে শুরু হওয়া ম্যাচের প্রথমার্ধে অবশ্য বাংলাদেশের চেহারা ছিল একেবারেই অপরিচিত। পাসিংয়ে সমন্বয়ের অভাব, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণহীনতা এবং রক্ষণভাগের ভুলে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় দুইবারের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের ২২ মিনিটে সেই চাপেরই ফল পায় নেপাল। কর্নার থেকে সৃষ্ট জটলার মধ্যে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন গীতা রানা। গোল হজমের পর আরও এলোমেলো হয়ে পড়ে বাংলাদেশ। একাধিক সুযোগ তৈরি করেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি নেপাল। বিশেষ করে ৩৬ মিনিটে প্রীতি রাইয়ের শক্তিশালী শট গোলরক্ষক মিলির হাত ছুঁয়ে ক্রসবারে লেগে ফিরে আসায় বড় বিপদ থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ৩৯ মিনিটেই কৌশলগত পরিবর্তন আনেন কোচ। উমেলা ও প্রীতির পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় তহুরা খাতুন ও শামসুন্নাহার জুনিয়রকে। তবে প্রথমার্ধের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের আক্রমণে ধার দেখা যায়নি।
কিন্তু প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বদলে যায় ম্যাচের দৃশ্যপট। মারিয়া মান্দার নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে পাওয়া কর্নারকে সরাসরি জালে জড়িয়ে দেন ঋতুপর্ণা চাকমা। দৃষ্টিনন্দন ‘অলিম্পিক গোল’-এ সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। সেই গোলই যেন নতুন প্রাণ জোগায় দলকে।

বিরতির পরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে নেপাল। তবে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশও। মাঝমাঠে মনিকা চাকমার আগমন কিছুটা ভারসাম্য এনে দেয়। ৬৪ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের ক্রস থেকে মনিকা হেড করলেও বল লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।
পরে আক্রমণ আরও শাণিত করতে মাঠে নামানো হয় সাগরিকাকে। ৭৮ মিনিটে মনিকার পাস থেকে তাঁর জোরালো শট দুর্দান্ত দক্ষতায় রক্ষা করেন নেপালের গোলরক্ষক আনজিলা তুম্বাপো।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ৯৩ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের পাস থেকে গোলমুখে তৈরি হওয়া জটলায় বল জালে পাঠিয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন সাগরিকা। যদিও পরে সাফের অফিসিয়াল ম্যাচ রিপোর্টে গোলটি নেপালের প্রীতি রাইয়ের আত্মঘাতী গোল হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

নাটকীয় এই জয়ে আরও একবার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ। ম্যাচসেরা হয়েছেন ঋতুপর্ণা চাকমা। আগামী ৬ জুন শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত, যারা অপর সেমিফাইনালে ভুটানকে ১-০ গোলে পরাজিত করেছে।
ফাইনালে কী হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে নেপালের বিপক্ষে কোণঠাসা অবস্থা থেকে যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় ছিনিয়ে এনেছে বাংলাদেশের মেয়েরা, তা দেশের নারী ফুটবলের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে দীর্ঘদিন।