অর্থনীতি  ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল 


রাষ্ট্রায়ত্ত ৪৪টি বন্ধ ও লোকসানী কারখানা নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ক্ষেত্রে নীতি সহায়তার পাশাপাশি স্বল্প সুদের ঋণ ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা।


গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এসব প্রস্তাব উঠে আসে। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি কর্মকর্তারা জানান, এসব কারখানা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি), যৌথ বিনিয়োগ, দীর্ঘমেয়াদি ইজারা বা সরাসরি বিক্রির মাধ্যমে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।


সভায় বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব কারখানায় বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে হবে। তিনি বলেন, “পিপিপি, যৌথ বিনিয়োগ বা টার্ম লিজ—যে কোনো মাধ্যমে আপনারা প্রস্তাব দিতে পারেন। কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, আলোচনা করে তা নির্ধারণ করা হবে।”


ব্যবসায়ীদের প্রধান দাবি ছিল রুগ্ণ শিল্পের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আওতায় ঋণের সুদের হার কমানো। বর্তমানে এই স্কিমের সুদহার ৫ থেকে ৬ শতাংশ হলেও আরও কমানোর সম্ভাবনা বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়।


সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ১০৭টি কারখানার মধ্যে ৬৪ শতাংশ বন্ধ এবং ২৬ শতাংশ লোকসানে রয়েছে বলে তথ্য তুলে ধরা হয়।


পুনরায় চালুর জন্য যেসব ৪৪টি কারখানা চিহ্নিত করা হয়েছে, তার মধ্যে টেক্সটাইল, চিনি, পাট, স্টিল ও কেমিক্যাল খাতের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো পিপিপি, লিজ বা বিক্রির মাধ্যমে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।


সভায় দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা বিনিয়োগ শর্ত, আর্থিক সুবিধা এবং নীতিগত সহায়তা বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব দেন।


সরকার জানিয়েছে, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।