নিজস্ব প্রতিবেদক | ক্রাইম ক্রনিকল
মশা নিয়ন্ত্রণের আধুনিক কৌশল শিখতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। সফরের প্রস্তুতিও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তবে শেষ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে বিষয়টি পৌঁছালে তাঁর এক সংক্ষিপ্ত মন্তব্যেই পুরো পরিকল্পনা থেমে যায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নাকি মন্তব্য করেন, “মশা মারার কৌশল শিখতে বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সন্ধ্যার পর যেকোনো ডোবা বা জলাশয়ের পাশে কিছুক্ষণ দাঁড়ালেই বাস্তব অভিজ্ঞতা হয়ে যাবে।” তাঁর এই রসাত্মক মন্তব্যের পরই প্রস্তাবিত সফরটি বাতিল করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সফরকারী দলে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেনের। এছাড়া দলে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির চৌধুরী এবং ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম। সূত্রগুলোর দাবি, সফরকে আরও কার্যকর করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তাকেও দলে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা জানান, মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে ইতোমধ্যে প্রায় পৌনে চার কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক প্রযুক্তির কীটনাশক বিটিআই (Bacillus thuringiensis israelensis—BTI) ক্রয় করেছে সিটি করপোরেশন। বর্তমানে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এই কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, মশকনিধনের উদ্ভাবনী কার্যক্রম পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভ্যালেন্ট বায়োসায়েন্সেস এলএলসির অর্থায়নে চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেন এবং আরও পাঁচজন কর্মকর্তার ফ্লোরিডা সফরের প্রস্তাব ছিল। সফরের মাধ্যমে আধুনিক মশক নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
তবে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে পুরো প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনার মুখে পড়ে। প্রধানমন্ত্রীর ওই মন্তব্যের পর সফরটি বাতিল করা হয়। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের উদাহরণ হিসেবে ঘটনাটিকে উল্লেখ করেন, আবার কেউ কেউ এটিকে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন বলেন, সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফরের প্রবণতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, দেশের ভেতরেই বিদ্যমান অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে অনেক সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব।