জাতীয় ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের ঢাকা সফরের পর বাংলাদেশ-তুরস্ক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সফরের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দেশ প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ে যৌথ কমিটি গঠন এবং প্রতিবছর ‘টু প্লাস টু’ (২+২) পরামর্শ বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
যদিও স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে সরাসরি প্রতিরক্ষা শিল্পের বিষয় উল্লেখ নেই, তবে কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ড্রোন, রকেট সিস্টেম ও অন্যান্য আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগোচ্ছে। বাংলাদেশ এরই মধ্যে তুরস্ক থেকে বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে এবং ২০২২ সালে ড্রোন ক্রয়ের জন্যও চুক্তি করেছে।
ছবি: হাকান ফিদান ও ড. খলিলুর রহমান
বিশ্লেষকদের মতে, তুলনামূলক কম খরচে আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি পাওয়ার সুযোগ থাকায় তুরস্ক বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে। বিশেষ করে চীননির্ভরতা কমানো এবং সামরিক সরঞ্জামের উৎস বৈচিত্র্যকরণের ক্ষেত্রেও এ সহযোগিতা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ এখন শুধু সামরিক সরঞ্জাম আমদানি নয়, বরং দেশেই উৎপাদন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ খুঁজছে। পাশাপাশি সামরিক প্রশিক্ষণ ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং মুসলিম বিশ্বে তুরস্কের কৌশলগত অবস্থানও দুই দেশের সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করার পেছনে ভূমিকা রাখছে।