স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল


নাটোরে একটি ‘খ্যাপা’ বানরের ভয়ে রীতিমতো অবরুদ্ধ দিন কাটাচ্ছেন নাটোর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের লালবাজার মহল্লার বাসিন্দারা। গত তিন মাসে এই বানরটির আক্রমণে অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে গুরুতর আহত ১৫ জনকে নিতে হয়েছে জলাতঙ্কের টিকা। অতিষ্ঠ ও আতঙ্কিত এলাকাবাসী অবশেষে এই বানরের হাত থেকে রেহাই পেতে ডিসি কাছে গণস্বাক্ষর-সংবলিত একটি লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।


গত বৃহস্পতিবার দুপুরে লালবাজার মহল্লার শতাধিক বাসিন্দার পক্ষে মিলন আখন্দ নামের এক ব্যক্তি জেলা প্রশাসকের কাছে এই দরখাস্ত জমা দেন।


আবেদনপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে ভিন্ন কোনো এলাকা থেকে একটি বানর এসে লালবাজার মহল্লায় আস্তানা ছাড়ে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বানরটি মহল্লার রাস্তাঘাটে দাপিয়ে বেড়ায়। শুধু রাস্তায় নয়, সুযোগ পেলেই এটি মানুষের বাড়িঘরের রান্নাঘর, খাবার টেবিল, এমনকি স্থানীয় হোটেল ও দোকানে ঢুকে খাবার ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। খাবার না পেলে বা বাধা দিলে এটি মানুষের ওপর হিংস্রভাবে চড়াও হচ্ছে। বানরের কামড় ও আঁচড়ের ভয়ে মহল্লাবাসী এখন সারাক্ষণ ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।


বানরের আক্রমণের শিকার স্থানীয় বাসিন্দা কাকলী রায় (৩২) তাঁর ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, "প্রায় দুই মাস আগে আমি একটা দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ বানরটি লাফ দিয়ে এসে আমার হাতে কামড় দেয়। কামড় এতটাই শক্ত ছিল যে আমার একটা আঙুলের রগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে অপারেশন করে রগ জোড়া দিতে হয়েছে। এখনো আমি পুরোপুরি সুস্থ হতে পারিনি।"


আরেক ভুক্তভোগী সঞ্জয় রায় (২৫) বলেন, "একদিন বানরটি আমার ঘরে ঢুকে ফ্রিজ খোলার চেষ্টা করছিল। আমি দৌড়ে এসে ঘরের দরজা আটকে দিতে গেলে বানরটি ক্ষিপ্ত হয়ে আমার কনুইয়ের নিচে কামড় দেয়। কামড়ের জায়গায় গভীর গর্ত হয়ে গিয়েছিল। এই কামড়ের কারণে আমাকে সাতটি টিকা নিতে হয়েছে।"


নাটোর সদর হাসপাতালের ভ্যাকসিন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টাফ নার্স পারভিন আক্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "মাঝেমধ্যেই বানরের আক্রমণের শিকার হয়ে রোগীরা হাসপাতালে আসছেন। গত তিন মাসে আমরা লালবাজার এলাকার অন্তত ১৫ জনকে টিকা দিয়েছি। এছাড়া অনেকে সরকারি হাসপাতালের বাইরে থেকেও টিকা নিচ্ছেন।"


এদিকে বানরটিকে আটক করার বিষয়ে জানতে চাইলে বন বিভাগের রাজশাহী কার্যালয়ের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "লালবাজারের বানরটি আসলেই অস্বাভাবিক আচরণ করছে। আমরা বারবার চেষ্টা করেও চতুর বানরটিকে খাঁচাবন্দী করতে পারিনি। তবে আমরা হাল ছাড়ছি না, এখন বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে ওকে ধরার চেষ্টা করছি।"


এ বিষয়ে নাটোরের এডিসি (সার্বিক) আবুল হায়াত বলেন, "মহল্লাবাসীর লিখিত দরখাস্ত আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বানরটিকে ধরে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"