বিজ্ঞান ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল

নিজ প্রজাতির স্বাভাবিক রঙের বিপরীতে অস্বাভাবিক রঙ নিয়ে জন্মানো প্রাণিকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় অ্যালবাইনো (Albino)। শব্দটি এসেছে ল্যাটিন albus থেকে, যার অর্থ 'সাদা' বা 'বর্ণহীন'। অ্যালবিনিজম (Albinism) হলো একটি জন্মগত জিনগত রোগ, যা প্রাণির চুল, চোখ এবং ত্বককে বিবর্ণ করে দেয়। মানুষ সহ অন্যান্য প্রাণি যেমন বাঘ, সিংহ, কুমির, পাখি ইত্যাদি প্রজাতির মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। সেই তালিকায় যুক্ত হলো নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত 'ডোনাল্ড ট্রাম্প' নামের মহিষটিও।
ত্বক, চুল বা চোখে জৈব রঞ্জক পদার্থ বা পিগমেন্টের অনুপস্থিতিতে অ্যালবিনিজম দেখা যায়। এর প্রভাবে যেকোন প্রাণির মেলানিনের ঘাটতিসহ আলোক সংবেদনশীলতা ও দৃষ্টিক্ষমতা কমে যায়। তবে অস্বাভাবিকভাবে ফ্যাকাশে সাদা হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করা হয় বংশসূত্রে পাওয়া জিনগত বিশেষ বৈশিষ্ট্যকে। 'ডোনাল্ড ট্রাম্প' তার বাবা ও মা উভয় থেকেই এই অ্যালবাইনো জিন পেয়েছিলেন। বিজ্ঞানীদের মতে, প্যারেন্টাল প্রজন্মের প্রচ্ছন্ন জিনের প্রকরণ প্রকট হয়েছে পরবর্তী প্রজন্ম অর্থ্যাৎ ডোনাল্ড ট্রাম্পের শরীরে। তাই স্বাভাবিক মহিষের কুচকুচে কালো রঙের বদলে ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছেন সম্পূর্ণভাবে বিপরীত রঙ। এই জিনগত অভাবই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দিয়েছেন বিশ্বজোড়া খ্যাতি।

তবে প্রকৃতিতে এমন অ্যালবাইনো প্রাণি মাঝে মধ্যেই দেখা যায়। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় পাওয়া গিয়েছিলো বিরল সাদা অ্যালবাইনো কুমির। বাংলাদেশেও কয়েক দশক আগে অ্যালবাইনো কাক দেখা গিয়েছিলো। তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে গেলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি রাতারাতি বনে গেলেন বৈশ্বিক তারকা। তাকে নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা, কৌতুকে, হাসি-ঠাট্টা চলছে হরদম। কেউ কেউ মহিষটিকে বলছেন "কমান্ডার-ইন-বিফ"! আবার কেউ ডাকছেন "ট্রাম্প দ্যা বাফেলো"!
একটি বিরল জিনগত বৈশিষ্ট্য, যা প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে গিয়ে জন্ম দিয়েছে এক ব্যতিক্রমী সত্তার। সেই অস্বাভাবিকতাই নারায়ণগঞ্জের একটি সাধারণ মহিষকে এনে দিয়েছে অসাধারণ পরিচয়।