স্টাফ রিপোর্টার। ক্রাইম ক্রনিকল
গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছাত্র–জনতার আন্দোলন, সহিংসতা ও ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দেশ ছাড়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি প্রকাশ্যে খুব কমই কথা বলেছেন। আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতাও দেশ ছেড়ে বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন পর ভারতীয় বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশের রাজনীতি, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এবং নিজের প্রত্যাবর্তন নিয়ে কথা বলেছেন শেখ হাসিনা।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি দ্রুতই দেশে ফিরবেন এবং “মাথা উঁচু করে” ফিরবেন। তাঁর ভাষ্য, দেশে “গণতান্ত্রিক পরিবেশ” ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েই তাঁর প্রত্যাবর্তন হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, জীবনে বহুবার হত্যাচেষ্টার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তাঁকে ও তাঁর দলকে ধ্বংসের চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু আওয়ামী লীগকে থামানো যায়নি। তাঁর ভাষ্য, “সৃষ্টিকর্তা যেহেতু বাঁচিয়ে রেখেছেন, আমি দ্রুতই বাংলাদেশের মাটিতে ফিরব। মাথা উঁচু করে, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফেরানোর গর্ব নিয়েই ফিরব।”
এদিকে গত মাসে নয়াদিল্লি সফরের সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারতের সরকারের কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাতে দেশটির কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে এখনো নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। দলটির ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা–গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, অতীতেও আওয়ামী লীগকে দমন করার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু দলটি আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছে। শেখ হাসিনার ভাষ্য, আওয়ামী লীগের কোটি সমর্থক ও লাখো নেতা–কর্মী এখনো দেশে সক্রিয় আছেন এবং “নীরবে প্রস্তুতি” চলছে।
তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পরও আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু উল্টো আওয়ামী লীগ আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসে। যারা বর্তমান নিষেধাজ্ঞাকে স্থায়ী মনে করছেন, তাঁদের ইতিহাসের দিকে তাকাতে বলব।”
দেশের বাইরে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের প্রসঙ্গেও কথা বলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কেউ স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়েননি; বরং রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অনেকে বাধ্য হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, শত শত নেতা–কর্মী নিহত হয়েছেন এবং বিপুলসংখ্যক নেতা–কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিদেশে থাকা নেতারা বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরছেন।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন শেখ হাসিনা। বিরোধীদের দীর্ঘদিনের “ভারতপন্থী” অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি করেনি। উদাহরণ হিসেবে তিনি ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি, আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি এবং ২০১৫ সালের স্থলসীমান্ত চুক্তির কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মানেই দেশের স্বার্থ বিসর্জন নয়।”