নোয়াখালী প্রতিনিধি। ক্রাইম ক্রনিকল
মধ্যবিত্ত পরিবারের দুই ছেলে। পরিচয় হয়েছিল নোয়াখালীর এক সরকারি কলেজে, প্রাণিবিদ্যা অনার্সের ক্লাসে। মিল ছিল দুইটি জায়গায়—প্রোগ্রামিং শেখার আগ্রহ এবং পরিবারের জন্য কিছু করার তাড়না। সেই মিল থেকেই জন্ম নেয় শাকের ও শামীমের অটুট বন্ধুত্ব।
শুরুটা মসৃণ ছিল না। অনলাইনের ভুয়া রিসোর্স, সরকারি প্রোজেক্ট, স্ক্যামে কেনা কোর্স—সবই চেষ্টা করেছে দুজন। শামীম একসময় প্রোগ্রামিং হিরোর ওয়েব ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্পের পাইরেটেড কনটেন্ট হাতে পায়। নিজে নিজে এগোতে না পেরে সিদ্ধান্ত নেয়, আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ভর্তি হবে। শাকেরকেও সঙ্গে নেয়।
কোর্সের ফি জোগাড় করতেই কেটে যায় মাসের পর মাস। শামীম দুই মাস একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করে টাকা জমায়। শাকের টিউশনি করে জমানো টাকা, ভাইয়ের দেওয়া ৫০ টাকা এবং ধার করা অর্থ মিলিয়ে প্রোগ্রামিং হিরোর ৫ম ব্যাচে ভর্তি হয়।
নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের সঙ্গে দুজনই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষ করে। এরপর শুরু হয় চাকরির লড়াই। শামীম দ্রুত ইন্টার্নশিপ সুযোগ পেলেও শাকেরকে অপেক্ষা করতে হয়। শেষ পর্যন্ত পেরুর প্রতিষ্ঠান লেয়ারহাবে (Layerhub) প্রথম চাকরি পান শাকের, মাসিক বেতন ২৫০ মার্কিন ডলার। শাকেরের সুপারিশেই পরে শামীমও সেখানে যোগ দেন। ক্লাসের বন্ধু থেকে তারা হয়ে যান অফিসের সহকর্মী।
লেয়ারহাবে এক বছর দুই মাস কাজের পর দুজনকেই নিয়োগ দেয় প্রতিষ্ঠানটির একজন মার্কিন ক্লায়েন্ট অ্যালেক্স। তাঁর সঙ্গে নয় মাস কাজ করার সময় শাকের ৩০ ডলারের একটি ড্যাশবোর্ড প্রজেক্ট এক দিনেই শেষ করে দেন। এতে ক্লায়েন্ট এতটাই মুগ্ধ হন যে প্রকল্পের পারিশ্রমিক ৩০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৬০ ডলার করে দেন।
সেই প্রকল্পই বদলে দেয় তাদের জীবন। একদিন প্রকল্পদাতা একটি বৈঠক ডেকে জানান, এতদিন তারা আসলে মি.বিস্টের জন্য কাজ করছিলেন। দলে সফটওয়্যার ডেভেলপার প্রয়োজন ছিল। শাকের তাঁর বন্ধু শামীমকে সুপারিশ করেন। তিন মাসের পরীক্ষামূলক ট্রায়ালের শর্তে দুজনই মি.বিস্টের স্ট্র্যাটেজিক টিমে সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসেবে যুক্ত হন।
কয়েক দিন আগেই সেখানে তাদের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। নোয়াখালীর কলেজ বেঞ্চ থেকে উঠে আসা দুই তরুণ এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইউটিউব কনটেন্ট নির্মাতাদের একজন, MrBeast–এর টিমে কাজ করছেন।
তাদের গল্প শুধু ক্যারিয়ারের নয়। এটি ধার করা ৫০ টাকা, কম্পিউটার দোকানের চাকরি আর কখনো হাল না ছাড়ার এক অনুপ্রেরণার গল্প।