স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল
চট্টগ্রাম মহানগরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযানের মধ্যেও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর ঝটিকা কর্মসূচি থামছে না। জুন মাসের শুরু থেকেই মিছিল ও গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে নগরীর রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুন রাতে ও ২ জুন সকালে মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৬৮ থেকে ৭০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মিছিল, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর মধ্যেই শুক্রবার (৫ জুন) চট্টগ্রাম নগরের ৮ নম্বর শুলকবহর ওয়ার্ড যুবলীগের ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়। মিছিল থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ এবং বিভিন্ন মামলায় আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানানো হয়। অংশগ্রহণকারীরা ‘রাজবন্দীদের মুক্তি’ এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে স্লোগান দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিছিলটি শুলকবহর এলাকার কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে দ্রুত শেষ করা হয়। কর্মসূচি শেষ হওয়ার আগেই অংশগ্রহণকারীরা এলাকা ত্যাগ করেন।
চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে ঝটিকা মিছিলের পর পুলিশি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। গত কয়েক দিনের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী রয়েছেন বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের প্রকাশ্য কর্মসূচি বা সাংগঠনিক তৎপরতা বরদাশত করা হবে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত সর্বশেষ শুলকবহরের মিছিলটি প্রমাণ করছে যে, গ্রেপ্তার ও নজরদারির মধ্যেও চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর কিছু নেতাকর্মী এখনো প্রকাশ্যে কর্মসূচি দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।