স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল
জাতীয় সংসদের জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের আলোচনায় অনলাইন দরপত্র বা ই-জিপি (ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) পদ্ধতিতে সাবেক ‘ফ্যাসিস্ট’ আমলের ঠিকাদারদের প্রাধান্য পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন।
সোমবার (৮ জুন) সংসদে তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে প্রচুর কাজ করায় সাবেক ফ্যাসিস্টপন্থীদের ‘প্রোফাইল খুব স্ট্রং’। ফলে ই-জিপিতে অংশ নিয়ে তারা খুব সহজেই কাজ পেয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনের পর আসা নতুন কোম্পানি বা অভিজ্ঞ প্রকৌশলীরা তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না।
আশরাফ উদ্দিন আরও অভিযোগ করেন, সাবেক ফ্যাসিস্টপন্থীরা পর্দার আড়াল থেকে কাজ বাগিয়ে নেওয়ার পর তা তিন-চার ধাপে বিক্রি করে দেয়। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় অযোগ্য ঠিকাদাররা কাজ পাওয়ায় তারা নিম্নমানের মালামাল দিয়ে কাজ শেষ করে। এই পরিস্থিতি বন্ধে এবং ফ্যাসিস্টরা যাতে ই-জিপি প্রক্রিয়ায় আসতে না পারে, সেজন্য তিনি সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান।
একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কাজের মান ধরে রাখতে বহিরাগতদের চেয়ে স্থানীয় ঠিকাদারদের বেশি সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান এই সংসদ সদস্য। তিনি উল্লেখ করেন, অন্য জেলা বা বিভাগের ঠিকাদাররা স্থানীয় এলাকার কাজ পেলে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি হয়।
জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এই বিষয়গুলো আমরা অবগত আছি। আমরা ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে এই বিষয়ে আলাপ করেছি। সঠিক ও যোগ্য ব্যক্তিরা যেন কাজ পান, সেজন্য আমরা এই আইনটি কীভাবে রিভিউ করা যায়, তা বিবেচনা করব।’ এলজিইডির কাজের বিষয়ে তিনি জানান, গ্রামীণ রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাটবাজারের অবকাঠামোসহ সব ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ এলজিইডির সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এদিকে, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনসহ দেশের সব বিভাগীয় ও জেলা শহরের খেলার মাঠ এবং পার্কগুলো উদ্ধারের জোর দাবি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, বিনোদনের এই জায়গাগুলো এখন মাদক ব্যবসা, হকারদের উৎপাত এবং বখাটেদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। অনেক জায়গা অবৈধভাবে দখল হয়েছে, আবার কোথাও শিশুপার্কের নামে বাণিজ্যিক ব্যবহার চলছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জন্য এগুলো আর নিরাপদ নেই।
ঢাকা শহরের খেলার মাঠগুলোর বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘কাজির গরু খাতায় আছে, গোয়ালে নেই’ প্রবাদের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, দখল হয়ে যাওয়া মাঠগুলোতে এখন নানা ধরনের স্থাপনা, ক্লাব, মার্কেট, এমনকি হাটবাজার গড়ে উঠেছে।
এই দাবির জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে মাঠ ও ফাঁকা জায়গাগুলোকে দলীয় কারণে দখল করে নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান বিএনপি সরকার গঠনের পর সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন অধিকাংশ পার্ক ও খেলার মাঠ বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে প্রায় বেদখল ছিল। সরকার এসব নিজ দখলে নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। ঢাকায় সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য সংস্থার মালিকানাধীন ২৫৬টি পার্ক ও খেলার মাঠ রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে খেলার উপযোগী করে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।