আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল


মানবজাতিকে পুনরায় চাঁদে ফিরিয়ে নেওয়ার মহোৎসব ‘আর্টেমিস’ প্রকল্পের পরবর্তী ধাপের জন্য চারজন নভোচারীর নাম ঘোষণা করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। বৈজ্ঞানিক মহলে তুমুল সাড়া জাগানো এই ‘আর্টেমিস-৩’ (Artemis III) মিশনটি আগামী ২০২৭ সালে মহাকাশে পাড়ি জমাবে।


নাসার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, এই ঐতিহাসিক অভিযানের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করবেন র্যান্ডি ব্রেসনিক। তাঁর সঙ্গে পাইলট হিসেবে থাকছেন ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ESA) ইতালীয় নভোচারী লুকা পারমিতানো। এছাড়া এই চার সদস্যের দলে মিশন স্পেশালিস্ট হিসেবে যুক্ত হয়েছেন ফ্রাঙ্ক রুবিও এবং আন্দ্রে ডগলাস।


নাসা জানিয়েছে, আগামী বছর ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (SLS) রকেটের মাধ্যমে ওরিয়ন মহাকাশযানে চড়ে পৃথিবীর কক্ষপথের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন এই চার নভোচারী।


এই অভিযানের মূল লক্ষ্য চন্দ্রপৃষ্ঠে মানুষের চূড়ান্ত অবতরণের আগে কিছু অত্যন্ত জটিল মহাকাশ মহড়া সম্পন্ন করা। পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে অবস্থানকালে নভোচারীরা ওরিয়ন মহাকাশযানের সঙ্গে বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (যেমন স্পেসএক্স বা ব্লু অরিজিন) তৈরি ল্যান্ডার বা চন্দ্রযানের সংযোগ স্থাপন (Rendezvous) এবং ডকিং (Docking) ক্ষমতা পরীক্ষা করবেন। ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযানগুলোর নিরাপত্তার স্বার্থে এই পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।


চলতি বছরের এপ্রিলে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া ‘আর্টেমিস-২’ চন্দ্র-কক্ষপথ মিশনের ওপর ভিত্তি করেই এই নতুন মিশনটি সাজানো হয়েছে। এটিকে মহাকাশ বিজ্ঞানের নতুন যুগের সূচনা আখ্যা দিয়ে নাসা প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান বলেন, "আর্টেমিস-৩ হলো মূলত আমাদের অফ-ওয়ার্ল্ড ভবিষ্যতের শুরু।"


আর্টেমিস-৩ মিশন ঘিরে ব্যাপক উৎসাহের পাশাপাশি কিছু শঙ্কাও দেখা দিয়েছে। গত সপ্তাহে মার্কিন ধনকুবের জেফ বেজোসের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ব্লু অরিজিন’-এর একটি ‘নিউ গ্লেন’ রকেটে প্রাক-উৎক্ষেপণ পরীক্ষার সময় আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে। যেহেতু এই দশকের শেষের দিকে নভোচারীদের চাঁদের মাটিতে নামানোর জন্য ব্লু অরিজিনের ল্যান্ডার ব্যবহারের কথা রয়েছে, তাই এই দুর্ঘটনার পর মিশনগুলোর নিরাপত্তা ও সময়সীমা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।


তবে সমস্ত নিরাপত্তা ঝুঁকি নিখুঁতভাবে পর্যালোচনা করে ২০২৭ সালের এই মহাকাব্যিক মিশন সফল করতে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী নাসা ও তার সহযোগী সংস্থাগুলো।