নিজস্ব প্রতিবেদক | ক্রাইম ক্রনিকল
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। বিধানসভায় গৃহীত শোক প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক অনুলিপি ইতোমধ্যে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা সচিবালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো ওই বার্তায় খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অধিবেশনে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু প্রয়াত খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকবার্তা পাঠ করেন। এ সময় বিধানসভার সদস্যরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। পরে শোক প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
স্পিকার তার বক্তব্যে বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির একজন গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং নারীর ক্ষমতায়নের বিভিন্ন উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তার অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শোকবার্তায় খালেদা জিয়ার জীবন ও রাজনৈতিক পথচলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ১৯৪৬ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রদেশের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। দিনাজপুর মিশনারি স্কুল, দিনাজপুর গার্লস স্কুল এবং পরবর্তীতে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে লেখাপড়া করেন।
বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯৮১ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর খালেদা জিয়া রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগদান করেন এবং ১৯৮৪ সালে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। পরবর্তীকালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
শোক প্রস্তাবে বলা হয়, খালেদা জিয়া চারটি জাতীয় নির্বাচনে একাধিক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়েন। পরে ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সৃষ্টি হয়েছিল বলে শোকবার্তায় উল্লেখ করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা সচিবালয়ের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি সুমেন্দ্রনাথ দাস স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে শোক প্রস্তাবের অংশবিশেষ ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে পাঠানো ওই চিঠিতে ঢাকাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের কাছে অনুরোধ জানানো হয়, যাতে বার্তাটি মরহুমার পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা বাংলাদেশের জনগণের শোকের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে এবং খালেদা জিয়ার অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। একই সঙ্গে তার আত্মার মাগফিরাত ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে।
জানা গেছে, কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের মাধ্যমে শোকবার্তাটি মরহুমার পরিবার এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার এই উদ্যোগ দুই বাংলার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রতিফলন বলেও সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও কূটনৈতিক মহল থেকে শোক ও শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার এই শোক প্রস্তাবও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে পর্যবেক্ষকদের অভিমত।