▪︎ স্টেজ-৪ প্রোস্টেট ক্যান্সার ধরা পড়েছে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের
▪︎ রোগটি শরীরের হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছে
▪︎ চিকিৎসা চললেও পুরোপুরি নিরাময়ের সম্ভাবনা নেই
▪︎ অসুস্থতার মধ্যেও সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছেন বাইডেন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক । ক্রাইম ক্রনিকল
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে তার স্ত্রী জিল বাইডেনের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর। তিনি জানিয়েছেন, প্রোস্টেট ক্যান্সারের উন্নত পর্যায়ে আক্রান্ত হওয়ায় জো বাইডেনকে সম্ভবত জীবনের বাকি সময় এই রোগের সঙ্গেই বসবাস করতে হবে। তবে স্বাস্থ্যগত নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও তিনি স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখার চেষ্টা করছেন।
জিল বাইডেনের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যান্সার ধরা পড়ার পর তাদের পারিবারিক জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে যেসব বিষয় স্বাভাবিকভাবে ভাবা হতো, এখন সেগুলো স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এমন একটি রোগের বাস্তবতা মেনে নেওয়া সহজ নয়, বিশেষ করে যখন সেটি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার দাবি করে।
জো বাইডেনের অসুস্থতা প্রকাশ্যে আসার পর জানা যায়, তার প্রোস্টেট ক্যান্সার শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসকদের মূল্যায়নে রোগটি জটিল পর্যায়ে থাকলেও নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। এ কারণে তার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা পরিকল্পনা অনুসরণ করা হচ্ছে, যার লক্ষ্য রোগের বিস্তার সীমিত রাখা এবং জীবনমান যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখা।
জিল বাইডেন বলেন, বয়স ও চিকিৎসার প্রভাব মিলিয়ে তার স্বামীর দৈনন্দিন কাজের গতি আগের তুলনায় কমে গেছে। দীর্ঘ সময়ের কর্মসূচি বা ভ্রমণ এখন তার জন্য বেশি ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে। তারপরও তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং পরিচিতজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন।
তার ভাষায়, জো বাইডেন এখনও মানসিকভাবে দৃঢ় রয়েছেন। শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ গুটিয়ে নেননি। বিভিন্ন বিষয়ে আগ্রহ ধরে রেখেছেন এবং সুযোগ পেলেই পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে সময় কাটান।
জিল আরও জানান, রোগ শনাক্ত হওয়ার আগে কিছু শারীরিক উপসর্গ দেখা দিলেও প্রথমদিকে সেগুলোকে গুরুতর কিছু বলে মনে হয়নি। পরে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ক্যান্সার শনাক্ত হয়। রোগটি হাড়ে ছড়িয়ে পড়ার তথ্য জানতে পারার পর পরিবার গভীর উদ্বেগের মধ্যে পড়ে। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা হয়।
বর্তমানে চিকিৎসার অংশ হিসেবে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও বিশেষায়িত থেরাপি দেওয়া হচ্ছে। এসব চিকিৎসার ফলে কখনো কখনো ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও সামগ্রিকভাবে রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। চিকিৎসকেরা নিয়মিত তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন।
জিল বাইডেন বলেন, একজন ক্যান্সার রোগীর পরিচর্যা শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়; এর সঙ্গে মানসিক সমর্থনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ, ওষুধের সময়সূচি, বিভিন্ন পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়গুলো এখন তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে জো বাইডেনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, এমন পরিস্থিতি আগে জানা থাকলে তিনি আরেকটি পূর্ণ মেয়াদ দায়িত্ব পালন করতে পারতেন কি না। এ বিষয়ে জিল বাইডেন বলেন, এখনকার বাস্তবতা বিবেচনায় প্রশ্নটি স্বাভাবিক হলেও রোগ নির্ণয়ের আগে প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা ছিল না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাড়ে ছড়িয়ে পড়া প্রোস্টেট ক্যান্সার সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। যদিও এ ধরনের ক্যান্সার সম্পূর্ণ নিরাময় করা কঠিন, আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং রোগীর জীবনমান উন্নত করা সম্ভব। অনেক ক্ষেত্রেই রোগীরা বছরের পর বছর সক্রিয় জীবনযাপন করতে পারেন।
পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর ভাষ্য, জো বাইডেন বর্তমানে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলছেন এবং স্বাস্থ্য পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তার পরিবারও আশাবাদী যে নিয়মিত চিকিৎসা ও পরিচর্যার মাধ্যমে তিনি যতটা সম্ভব স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম জীবন বজায় রাখতে পারবেন।
জিল বাইডেনের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—কঠিন রোগের মুখোমুখি হলেও জো বাইডেন ও তার পরিবার পরিস্থিতির কাছে আত্মসমর্পণ করতে রাজি নন। বরং বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে চিকিৎসা, পরিচর্যা এবং পারিবারিক সমর্থনের মাধ্যমে সামনের পথ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।