স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল
অভিনেত্রী, মডেল ও দন্ত চিকিৎসক নায়লা নাঈম গত সোমবার (১ জুন) সাভারের একটি স্থানীয় বাজারে শারীরিক হেনস্থার শিকার হয়েছেন। তার ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, মায়ের সাথে কেনাকাটা করার সময় এক মধ্যবয়সী ব্যক্তি (৪২-৪৫ বছর) তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং মাথায় পর্দা না থাকায় ‘বেপর্দা’ ঘোরাফেরার অভিযোগ তোলেন।

সোমবার এক ফেসবুক পোস্টে হেনস্থার বর্ণনা দেন অভিনেত্রী নায়লা নাঈম।
ঘটনায় তার বাম হাতে ব্যথা পেলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আশ্রয় নিতে পারেননি; তার মা ভীত হয়ে পড়লে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এ ঘটনায় তিনি থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করেছেন কিনা, তা প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণস্বাস্থ্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিপ্রাপ্ত নায়লা নাঈম চলচ্চিত্র ও র্যাম্প মডেলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত। তার পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে নারী নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। তিনি নিজেকে ‘অরাজনৈতিক ব্যক্তি’ বলে উল্লেখ করে পোশাকের শালীনতা নিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করেন। তার মায়ের প্রতিক্রিয়া – ”গায়ে যদি কাপড় নিয়ে ফিরতে চাও, একটা ‘টু’ শব্দ করবে না” – রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ নাগরিকের ভীতির চিত্র তুলে ধরে। এ অবস্থায় আইন ও নারী নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; প্রয়োগের কার্যকর ব্যবস্থাও জরুরি।
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীরের মতে, জরিপকৃত নারীদের ৪৩ শতাংশই জনসমাগমস্থলে যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শাহনাজ হুদা জানান, হেনস্তার শিকারদের ওপর নির্ধারিত মেডিকেল টেস্টগুলো এখনও ব্রিটিশ আমলের, যা ভুক্তভোগীর জন্য কষ্টদায়ক ও কার্যকর প্রমাণ দিতে ব্যর্থ। বরিশালের আইনজীবী ও নারী অধিকার কর্মী সালমা আলী বলেন, বাংলাদেশে যৌন নিগ্রহ ও লৈঙ্গিক সহিংসতা দীর্ঘদিনের সামাজিক সমস্যা, যেখানে ভুক্তভোগীরা বিচার পেতে গেলে দ্বিতীয়বার শিকার হন এবং দণ্ডহীনতার সংস্কৃতিই অপরাধীদের উৎসাহিত করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও কঠোর আইন যথেষ্ট নয়; নারীদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।