স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল 


ভারতের মেঘালয় রাজ্যে বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী বেড়া নির্মিত হলে সীমান্তবর্তী লিংখং গ্রাম ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। এ উদ্বেগের প্রতিবাদে রোববার গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন এবং প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।


ইস্ট খাসি হিলস জেলার লিংখং গ্রামটি বাংলাদেশ সীমান্তের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। গ্রামটির বহু বাড়িঘর সীমান্তরেখা থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে অবস্থান করছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত শূন্যরেখা বা জিরো লাইন থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব রেখে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হয়।


স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্তমানে যে নকশা অনুযায়ী বেড়া নির্মাণের কাজ চলছে, তা বাস্তবায়িত হলে লিংখং গ্রামের একটি অংশ নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে পড়ে যেতে পারে। এতে গ্রামবাসীদের চলাচল, নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা জটিল হয়ে উঠবে বলে তারা মনে করছেন।


বিক্ষোভকারীরা চলমান নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে জিরো লাইন বরাবর বেড়া নির্মাণের দাবি জানান। পরে তারা পিনুরসলা অঞ্চলের সাব-ডিভিশনাল কর্মকর্তার কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন।


গ্রামপ্রধান রামু বলেন, তারা সীমান্তে বেড়া নির্মাণের বিরোধিতা করছেন না। তবে তাদের দাবি, এমনভাবে বেড়া নির্মাণ করতে হবে যাতে গ্রামটি ভারতের ভেতরে এবং নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে থাকে। বর্তমান পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে গ্রামটি কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।


একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা রিমা খংসদির। তার মতে, বর্তমান নকশা অনুযায়ী বেড়া নির্মিত হলে গ্রামবাসীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। তিনি এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা উন্নত করার অংশ হিসেবেই এই বেড়া নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।


সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মেঘালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৪৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ভৌগোলিক জটিলতা, স্থানীয় সমস্যা এবং দুর্গম এলাকার কারণে এখনো সীমান্তের প্রায় ৮০ কিলোমিটার অংশে বেড়া নির্মাণ সম্পন্ন হয়নি।


বিএসএফের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লিংখং গ্রামে ইতোমধ্যে একটি ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রয়েছে।


অন্যদিকে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেসব এলাকায় জনবসতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে জিরো লাইন বরাবর একক সারির (সিঙ্গেল-রো) বেড়া নির্মাণের বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।