আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতস্থলগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে ইরান। দেশটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনাগুলোর প্রবেশপথ সিল করে দিয়েছে, কিছু এলাকায় মাইন স্থাপন করেছে এবং কয়েকটি গোপন সুড়ঙ্গ অচল করে দিয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
শনিবার (১৩ জুন) মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত পাঁচটি সূত্রের বরাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক মাস আগের তুলনায় বর্তমানে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতস্থলে পৌঁছানো অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রশাসনের কিছু মহল থেকে অতীতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র এসব ইউরেনিয়াম জব্দ করার চেষ্টা করতে পারে।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫; স্যাটেলাইট চিত্রে ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে একটি কনক্রিট মিক্সিং প্ল্যান্ট এবং ভূগর্ভস্থ টানেল কমপ্লেক্সের প্রধান প্রবেশপথ দেখা যাচ্ছে। ছবি: মাক্সার/ডিজিটালগ্লোব/গেটি ইমেজেস।
তবে এ বিষয়ে জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী মিশন তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে হোয়াইট হাউসও সিএনএনের প্রশ্নের জবাব দেয়নি।
সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, নিরাপত্তাব্যবস্থা এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে যে এখন প্রয়োজন হলে ইরানের পক্ষেও ওই ইউরেনিয়াম দ্রুত উদ্ধার করা সহজ হবে না। কারণ মজুতস্থলে পৌঁছাতে ব্যাপক খননকাজ এবং সম্ভাব্য মাইন অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সাবেক কর্মকর্তা স্কট রোয়েকার বলেন, প্রতিবেদনের তথ্য সঠিক হলে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পুনরুদ্ধারের বিষয়টি উল্লেখযোগ্যভাবে জটিল হয়ে যাবে।
তার মতে, ভবিষ্যতে ইরান দাবি করতে পারে যে মজুত ইউরেনিয়ামের একটি অংশ উদ্ধার করা সম্ভব নয়। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষে তখনও নিশ্চিত হওয়া কঠিন হবে যে ওই উপাদানগুলো ভবিষ্যতে আর ব্যবহারের সুযোগ পাবে না।

৩০ মার্চ, ২০০৫; ইরানের ইসফাহান শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত ইউরেনিয়াম রূপান্তর কেন্দ্রের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন সুরক্ষামূলক পোশাক পরিহিত এক ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা। ছবি: ওয়াহিদ সালেমি/এপি।
দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার অন্যতম প্রধান বিরোধের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাত্রার ইউরেনিয়াম আরও পরিশোধন করে অস্ত্র-উপযোগী পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব।
গত বছর আইএইএ ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পরমাণু অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালায়। প্রায় ১২ দিনব্যাপী ওই অভিযানে বেশ কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অবস্থান সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একাধিক দফায় আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও তা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।
পরবর্তীতে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর সহায়তায় দুই পক্ষ একটি সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার পথ খুঁজতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।