সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি


কুমিল্লা-৯ আসনের বিএনপি সমর্থিত সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের মালিকানাধীন চৈতি গ্রুপের পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বেতন, ঈদ বোনাস ও আর্নড লিভের টাকার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। ঈদুল আজহার মাত্র একদিন আগে মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার টিপুরদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে মেঘনা টোল প্লাজা থেকে মদনপুর পর্যন্ত প্রায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন ঈদে ঘরমুখো হাজারো যাত্রী।


প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর দেড়টার দিকে চৈতি নীট কম্পোজিট ও চৈতি গার্মেন্টসের শত শত শ্রমিক একযোগে মহাসড়কে অবস্থান নেন। তাঁরা বেতন, ঈদ বোনাস ও আর্নড লিভের টাকা পরিশোধের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় আটকে থাকে দূরপাল্লার বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহন। প্রচণ্ড গরমে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।


শ্রমিকদের অভিযোগ, সরকার ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ঈদের আগে চলতি মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করার কথা থাকলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা করেনি। তাঁদের দাবি, গড়ে প্রায় ২৫ হাজার টাকা পাওনার বিপরীতে মাত্র ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা ঈদের পর দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।


আন্দোলনরত এক নারী শ্রমিক বলেন, ‘ঈদের আর একদিন বাকি। এই সামান্য টাকা দিয়ে কীভাবে সংসারের বাজার করব, বাচ্চাদের কাপড় কিনব? বাধ্য হয়েই রাস্তায় নামতে হয়েছে।’


স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে কারখানার ভেতরে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিলে পরে তাঁরা মিছিল নিয়ে মহাসড়কে উঠে আসেন। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা না হওয়া পর্যন্ত সড়ক না ছাড়ার ঘোষণা দেন তাঁরা।


তবে শ্রমিকদের অভিযোগ অস্বীকার করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। চৈতি গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান বলেন, নিয়মিত বেতন ও ঈদ বোনাস ইতিমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। মূলত অর্জিত ছুটির (আর্নড লিভ) টাকার দাবিতে শ্রমিকেরা আন্দোলন করছেন। ওই টাকা ঈদের পর পরিশোধ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।


খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ, কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ, শিল্প পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক দফা টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। পরে শ্রমিকেরা মহাসড়ক ছেড়ে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।


কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম শেখ বলেন, শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। পরে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দিলে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন।


নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, শ্রমিকেরা চলতি মাসের বেতন ও আর্নড লিভের টাকার দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন। প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ মিনিট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।


চৈতি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কুমিল্লা-৯ আসনের বিএনপি সমর্থিত সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।