আন্তর্জাতিক ডেস্ক:


নেদারল্যান্ডসের রটারডাম শহরে ঐতিহাসিক মেভলানা মসজিদে হামলা ও অবমাননার ঘটনা ঘটেছে। একদল উগ্রপন্থী রাতের আঁধারে এই হামলা চালায়। এ সময় মসজিদের দেয়াল ভাঙচুর এবং ভবন লক্ষ্য করে বিয়ারের বোতল নিক্ষেপ করা হয়।


তবে হামলার সময় বারবার যোগাযোগ করা হলেও স্থানীয় পুলিশ তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের এই নিষ্ক্রিয় ভূমিকা ও দায়িত্বহীন মূল্যায়ন নিয়ে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।


তুরস্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে হামলার ভয়ঙ্কর বিবরণ উঠে এসেছে। স্থানীয় সময় রাত পৌনে ১২টার দিকে অন্তত ছয়জন মাস্ক পরা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি মেভলানা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে।




প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে নেদারল্যান্ডসের মূলধারার সংবাদমাধ্যম এনওএস জানিয়েছে, হামলাকারীরা যখন বাইরে তাণ্ডব চালাচ্ছিল, তখন মসজিদের ভেতরে মুসল্লিরা অবস্থান করছিলেন। তারা বাইরে প্রচণ্ড আগ্রাসী চিৎকার ও ভাঙচুরের শব্দ শুনতে পান।


হামলাকারীরা মসজিদের বাইরের অংশের একটি ঐতিহ্যবাহী মোজাইক দেয়াল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এরপর তারা মসজিদ ভবন লক্ষ্য করে বিয়ারের বোতল ছুড়ে মারে এবং ভবনের সম্মুখভাগে প্রস্রাব করার মতো চরম অবমাননাকর আচরণ করে।




মসজিদ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তাণ্ডব চলাকালীন জরুরি ফোন করলেও পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে। হামলা চলাকালীন সময়েই ভেতর থেকে তাঁরা স্থানীয় পুলিশকে একাধিকবার ফোন করে জরুরি সহায়তার অনুরোধ জানান। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হামলাকারীরা নির্বিঘ্নে ভাঙচুর শেষ করে এলাকা ত্যাগ করার অনেক পর।


ঘটনাস্থলে এসে ডাচ পুলিশ কর্মকর্তাদের দেওয়া মন্তব্য বিতর্ক ও ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইউরোপের সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে কাজ করা সংবাদমাধ্যম ইয়েনি শাফাকের প্রতিবেদন অনুসারে, রটারডাম পুলিশের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা মসজিদ কমিটিকে জানান, এই ঘটনাটি এমন কোনো বড় হুমকি বা জরুরি পরিস্থিতি ছিল না যার জন্য পুলিশের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন ছিল।


রটারডামের মেয়র কারলা স্কাউটেন এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এই ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী হিসেবে আখ্যা দিয়ে তদন্তে সহায়তার জন্য প্রত্যক্ষদর্শীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।




নেদারল্যান্ডসের শীর্ষ মুসলিম প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা ইসলামিক ফাউন্ডেশন নেদারল্যান্ডস (আইএসএন) ঘটনার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক কুরআন সংবাদ সংস্থা ইকনা এর তথ্য অনুযায়ী, ১৪৮টি তুর্কি মসজিদের এই অভিভাবক সংস্থার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই রটারডাম পুলিশ প্রশাসনের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।


ইউরোপজুড়ে ক্রমবর্ধমান ইসলামোফোবিয়া নিয়ে বিবৃতিতে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আইএসএন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উপাসনালয়ে হামলার ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি আরেকটি নিন্দনীয় দৃষ্টান্ত। এই হামলাকে সাধারণ কোনো ঘটনা হিসেবে না দেখে বর্ণবাদী অপরাধ হিসেবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত করার এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে তারা ডাচ মাটিতে মুসলিমদের স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে।