স্পোর্টস ডেস্ক। ক্রাইম ক্রনিকল 


বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জিতে নতুন ইতিহাস রচনা করেছে টাইগাররা। দীর্ঘ ২১ বছরের অপেক্ষার পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় দিয়ে শুরু করা বাংলাদেশ এবার পুরো সিরিজ নিজেদের করে নিল। লিখল ইতিহাসের নতুন এক অধ্যায়।


মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ বেলা ১১ টায় শুরু হওয়া ৩ ম্যাচ সিরিজের ২য় ওয়ানডেতে টস জিতে আগে ব্যাটিং এর সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া।

তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে প্রথম ২ ওভারে কোনো রান না তুলেই সাজঘরে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার এর ৩ ব্যাটসম্যান। 


শূন্য রানে ৩ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়াকে কিছুটা পথ দেখানোর চেষ্টা করেন জশ ইংলিস, এলেক্স ক্যারি এবং ক্যামেরুন গ্রিন। কিন্তু বাংলাদেশি বোলারদের তোপের মুখে কেউই বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। একপর্যায়ে ৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বেশ বিপাকে পরে অস্ট্রেলিয়া। 


এরপর ইনিংসের হাল ধরেন  মার্নাস লাবুশেন ও জেভিয়ার বার্টলেট। তাদের লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়া কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বড় সংগ্রহ গড়া সম্ভব হয়নি। 


৪২ ওভারে ৮ উইকেটের বিনিময়ে ১৮৭ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। ইনিংস সর্বোচ্চ ৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন লাবুশেন। আগুনে বোলিংয়ে তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান নেন ৩টি করে উইকেট। ২ উইকেট শিকার করেন বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলাম। বৃষ্টির কারণে এরপর আর খেলা মাঠে না গড়ানোয় ডি/এল পদ্ধতিতে বাংলাদেশের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ১৯২।




জবাবে ইনিংসের ২য় বলেই তানজীদ তামিমের উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পরে বাংলাদেশ। তবে এরপর সৌম্য ও শান্তর আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে  লক্ষ্যপূরণের পথে এগিয়ে যায় টাইগাররা। ৫ চার ও ২ ছয়ে ৪৭ বলে ৪২ রান করেন সৌম্য সরকার। শান্ত ফেরেন ৫৩ বলে ৪১ রান করে। 


১৮ বলে ২১ রান করে লিটন দাস আউট হলে কিছুটা শঙ্কা জাগে টাইগার শিবিরে। তবে এরপর আর চিন্তা বাড়তে দেননি তাওহীদ হৃদয়। মোসাদ্দেক হোসেন ১৪ বলে ১৫ রান করে ফিরে গেলে দেখেশুনে খেলে মিরাজকে নিয়ে ম্যাচ শেষ করে আসেন তিনি। ৫ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৩৫ ওভারেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছে যায় টাইগাররা। হৃদয় অপরাজিত থাকেন ৪০ রানে। মেহেদী মিরাজ করেন অপরাজিত ২২ রান। বাংলাদেশ পায় অবিস্মরণীয় এক জয়। 


এর আগে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মোসাদ্দেক হোসেনের দুর্দান্ত অপরাজিত ৮৬ রান এবং নাহিদ রানার আগুনঝরা বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ৮৬ রানে হারায় স্বাগতিকরা। এটি ছিল ২০০৫ সালের কার্ডিফের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে জয় এবং সব মিলিয়ে দ্বিতীয় জয়।




এই সিরিজের আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২২ টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের জয় ছিল মাত্র ১টি। ২০ টি ম্যাচই জিতে নেয় শক্তিশালী অজিরা। তবে এবারের সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে মুদ্রার অপর পিঠ দেখালো বাংলাদেশ।


নানা কারণে এই সিরিজ জয় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এর আগে অস্ট্রেলিয়াকে ঘরের মাঠে একটি করে টেস্ট ও টি টুয়েন্টি সিরিজ হারিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ঐ দুই সিরিজ হয়েছিল খেলার অযোগ্য কালো 'র‍্যাংক টার্নার' উইকেটে যা ছিল প্রচন্ডরকম স্পিন সহায়ক। তাই প্রশংসার বদলে সমালোচনাই বেশি জুটেছিল বাংলাদেশের ভাগ্যে।


কিন্তু এবারের গল্প একেবারে ভিন্ন। মাইটি অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই শক্তির জায়গা, পেস বান্ধব সবুজ স্পোর্টং উইকেটে সিরিজ হারিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার পরা ১৭ উইকেটের মধ্যে ১৩ টিই নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। 


এই সিরিজ জিতে বিশ্ব ক্রিকেটকে যেন এক নতুন বার্তা দিল বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশের এই দল সাহসী, অদম্য এক দল,  যারা যে কারো সাথে যেকোনো উইকেটে চোখে চোখ রেখে খেলতে পারে। এই বাংলাদেশ নিয়ে তো বুক ফুলিয়ে গর্ব করাই যায়।