আন্তর্জাতিক ডেস্ক। ক্রাইম ক্রনিকল
বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য দায়ী প্রাকৃতিক আবহাওয়া চক্র 'এল নিনো' আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ডেকোরেশন অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NOAA) ঘোষণা করেছে যে, গ্রীষ্মমন্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে বর্তমানে এল নিনোর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গত কয়েক মাসে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের ধারণা, এবারের এল নিনো একটি "সুপার এল নিনো" বা এযাবতকালের রেকর্ডকৃত সবচেয়ে শক্তিশালী আবহাওয়ারূপ ধারণ করতে পারে। মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সাথে এই এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হয়ে—বিশেষ করে ২০২৭ সালে—বিশ্বের তাপমাত্রা পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। এর ফলে আবহাওয়া বিপর্যয়, খাদ্য সরবরাহ সংকট এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা ২০২৭ সালের শেষভাগ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
অবশ্য নোয়া (NOAA)-এর এই ঘোষণা আকস্মিক কিছু নয়। গত বছরের শেষের দিকে শীতল আবহাওয়া চক্র 'লা নিনা' বিদায় নেওয়ার পর থেকেই পূর্বাভাসকরা এই উষ্ণায়ন পর্বের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
নোয়া-এর জুন মাসের পূর্বাভাস অনুযায়ী "আগামী নভেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে একটি অতি শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হওয়ার ৬৩% আশঙ্কা রয়েছে। এটি ১৯৫০ সাল থেকে শুরু হওয়া ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এল নিনোগুলোর একটি হিসেবে তালিকায় স্থান করে নিতে পারে।"
ইতিহাসে এর আগে মাত্র তিনবার এমন তীব্র এল নিনো দেখা গেছে—১৯৮২/৮৩, ১৯৯৭/৯৮ এবং ২০১৫/১৬ সালে। তবে মার্কিন ও ইউরোপীয় (ECMWF) কিছু আধুনিক মডেল আরও ভয়াবহ ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে এল নিনোর তীব্রতার পূর্বাভাস নিয়ে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন এই সংস্থা। তাদের মতে, এল নিনো অতি শক্তিশালী হলেও পৃথিবীর সব জায়গায় এর প্রভাব সমানভাবে নাও পড়তে পারে। তবে ইভেন্টটি যত শক্তিশালী হবে, বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার চরম বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা ততটাই বেড়ে যাবে।