অপরাধ ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
গত বছরের ৩০ নভেম্বর খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে দুই যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তবে সেটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে খুলনা মহানগরীতে এ পর্যন্ত ৮০ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ২০২৬ সালের ৬ জুন পর্যন্ত ৮০টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালে ২৯ জন, ২০২৫ সালে ৩৪ জন এবং চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ১৭ জন নিহত হয়েছেন।
একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে লবণচরা ও সোনাডাঙ্গা এলাকার ট্রিপল মার্ডার এবং ডাকবাংলো মোড়ে শ্রমিক দল নেতা মাসুম বিল্লাহকে প্রকাশ্যে গুলি ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সন্ত্রাসী হামলার ভয়ে অনেকেই সন্ধ্যার পর বাইরে বের হতে ভয় পান।
মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য দুর্বল নজরদারি, মাদক ব্যবসা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেছেন। তারা দ্রুত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ বলছে, অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডের পেছনে আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিরোধ কাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ৩ জুন থেকে মহানগরীতে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। তিন দিনের অভিযানে বিভিন্ন অভিযোগে ১২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ‘বি কোম্পানি’ নামে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তদন্তের ভিত্তিতে চক্রটির অন্য সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।