অর্থনীতি ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল

আজ বিশ্ব এলপিজি দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘এলপিজি: পাস ইট ফরওয়ার্ড’, যার মূল লক্ষ্য আগামী প্রজন্মের কাছে পরিবেশবান্ধব এই জ্বালানির ব্যবহার আরও সম্প্রসারণ করা। তবে খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এলপিজির ব্যবহার বাড়াতে হলে প্রথমেই এর মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে হবে।

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) আসন্ন বাজেটে এ খাতের ওপর আরোপিত বিভিন্ন শুল্ক ও কর কমানোর দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, সিলিন্ডার উৎপাদন ও বটলিংয়ের বিভিন্ন ধাপে একই পণ্যের ওপর একাধিকবার শুল্ক দিতে হয়, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর অতিরিক্ত মূল্যচাপ তৈরি করে।

২০১৫ সালে আবাসিক গ্যাসের নতুন সংযোগ বন্ধ হওয়ার পর দেশে এলপিজির ব্যবহার দ্রুত বাড়তে শুরু করে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যেখানে সরবরাহ ছিল প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টন, সেখানে ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে প্রায় ১৫ লাখ টনে পৌঁছায়। বর্তমানে দেশের এলপিজির প্রায় ৮০ শতাংশই ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালির রান্নার কাজে।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দাম বৃদ্ধি ভোক্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২০ সালে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার যেখানে ৯০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত, বর্তমানে এর নির্ধারিত দাম প্রায় ১ হাজার ৮৮৫ টাকা, আর বাজারে অনেক ক্ষেত্রে দুই হাজার টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে অনেক পরিবার বিকল্প হিসেবে বিদ্যুৎনির্ভর রান্নার সরঞ্জামের দিকে ঝুঁকছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, উচ্চমূল্যের কারণে এলপিজির নতুন গ্রাহক বাড়ার গতি কমে গেছে। একই কারণে পরিবহন খাতেও এলপিজির ব্যবহার প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না। বর্তমানে দেশে ৫৬টি প্রতিষ্ঠানের এলপিজি ব্যবসার লাইসেন্স থাকলেও বাজারের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে কয়েকটি শীর্ষ কোম্পানি।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের এখনও প্রায় ৬০ শতাংশ পরিবার রান্নার কাজে লাকড়ি, শুকনা গোবর ও অন্যান্য বায়োমাস জ্বালানি ব্যবহার করে। নগরায়ণ ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে এলপিজির বাজার আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এজন্য মূল্য সহনীয় রাখতে কর-শুল্ক কমানো এবং নীতিগত সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা।