স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বিএনপি সরকারের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে ঘিরে রাজনৈতিক দল, শ্রমিক সংগঠন ও ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে। বিরোধী দল থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন জোটের শরিক, শ্রমিক সংগঠন এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বাজেটকে ‘চানাচুরের মতো’ বলে মন্তব্য করেছেন। জাতীয় শ্রমিক শক্তি একে ‘গণবিরোধী’ ও ‘শ্রমিকবান্ধব নয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী, ঋণনির্ভর ও লুটপাটের’ বাজেট বলে আখ্যা দিয়েছেন। গণসংহতি আন্দোলন একে ‘অর্থনৈতিক বাজি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে ছাত্র ইউনিয়ন বাজেটকে ‘গতানুগতিক, গণবিরোধী ও বৈষম্যবর্ধক’ এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান খাতকে উপেক্ষা করার অভিযোগ তুলেছে।
জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর প্রতিক্রিয়ায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, অর্থপাচার রোধ এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে বাজেটে কোনো কার্যকর পরিকল্পনা নেই। তার মতে, এই বাজেট বাস্তবায়িত হলে দেশি-বিদেশি ঋণ ও মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে।
জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকির বলেন, বাজেটে শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় প্রতিফলন নেই। সংগঠনটির নেতাদের দাবি, কর্মসংস্থান, শ্রমিক কল্যাণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
ভোলায় এক কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, করকাঠামোর সংস্কার, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও বিদেশি ঋণ কমানোর বিষয়ে জামায়াতের দেওয়া প্রস্তাব সরকার বিবেচনায় নেয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে বাজেটের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাবে না।
গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান বলেন, বাজেটে কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও এর সফলতা নির্ভর করছে রাজস্ব আদায় ও প্রশাসনিক দক্ষতার ওপর। তিনি প্রতি তিন মাস অন্তর বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও তা জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানান।
ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজীদ হায়দার চঞ্চল ও সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার এক বিবৃতিতে বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈষম্য হ্রাসে কার্যকর কোনো দিকনির্দেশনা দিতে পারেনি। তাদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুপস্থিত।
অন্যদিকে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত আবারও উপেক্ষিত হয়েছে। বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরির কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা বাজেটে নেই এবং জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিও যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।
সব মিলিয়ে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে ঘিরে রাজনৈতিক দল, শ্রমিক সংগঠন ও ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও সমালোচনা দেখা গেছে। যদিও সরকার বাজেটকে উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধিমুখী হিসেবে তুলে ধরছে, তবে বিভিন্ন পক্ষের মতে এতে অর্থনৈতিক সংস্কার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ এবং দুর্নীতি দমনের মতো মৌলিক ইস্যুগুলোর কার্যকর প্রতিফলন নেই। ফলে বাজেটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।